পাঠক সংখ্যা

  • 7,695 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

গজারিয়ায় গণহত্যা দিবস : চিহ্নিত হয়নি ৯টি গণকবর

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে শুরু করে বাঙ্গালীদের উপর। পাকিস্তানীদের হামলার জবাব দিতে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যভাগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কিছু মুক্তিকামী তরুণ গোসাইচর গ্রামে একটি মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প গড়ে তোলেন। স্থানীয় যুবকদের প্রাথমিক ট্রেনিং দেয়া, প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানো হতো এখান থেকে। স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী ৯ মে ভোরে হামলা চালায় গজারিয়ায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঘুমিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। ১৯৭১ সালের ৯ মে রবিবার ভোরের সে হামলায় মুক্তিযোদ্ধাসহ মারা যায় ৩৬০জন মানুষ। সেদিন কলাপাতা আর পুরনো কাপড় পেচিয়ে ১০টি গণকবরে কবর দেয়া হয় ৩৬০জন মানুষকে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র একটি গণকবর। প্রশাসনের উদাসীনতায় বাকী ৯টি গণকবরের চিহ্নও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের সন্তান আব্দুল জালাল জানান, অনতিবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই গণকবরগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হোক। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এসব জায়গা সংরক্ষণের বিকল্প নেই।

ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের সন্তান কমলা বেগম জানান, সেদিন তার বাবা ও ভাই এক সাথে মারা যায়। যুদ্ধের পর পরিবার নিয়ে পথে বসতে হয় তাদের। দেশ স্বাধীন হবার পর সামান্য কিছু সরকারি সহায়তা দিলেও তারপর কেউ তাদের খবর রাখেনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের সন্তান আমির হোসেন জানান, ৪৮ বছর ধরে নিদারুন কষ্ট বুকে নিয়ে বেচে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, যে যুদ্ধে আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেলাম সেই যুদ্ধে যারা জীবন দিল তাদের স্মৃতিটুকু সংরক্ষণ করার ব্যাপারে প্রশাসনের এতো উদাসীনতায় হতবাক তিনি।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদী জানিয়েছেন, একটি গণকবর যেখানে অধিক লোককে কবর দেয়া হয়েছিল তা চিহ্নিত করে স্মৃতি ফলক লাগানো হয়েছে। বাকী নয়টি গণকবরও তারা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। দ্রুত সেগুলো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিবেন তিনি।

অবজারভার

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.