২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে খুন করা হয়েছিল মাজেদ আলীকে

পাবনার মাজেদ আলী হত্যায় তিনজন আসামি গ্রেফতারের পর হত্যার রহস্য বের করল র‌্যাব-১১। গত ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডটি এতো দিন ‘ক্লু-লেস মার্ডার’ হিসেবে ছিল। মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীস্থ র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার গোয়াগাছিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন বুলু, একই এলাকার সুলতান মাহমুদ বাবু ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলকার মাঝি সোহেল। মহিউদ্দিন বুলু এবং সুলতান মাহমুদ বাবু সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

র‌্যাব জানায়, পাবনার মাজেদ আলী ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে বিদেশে পাঠানোর জন্য মহিউদ্দিন বুলু দুই লাখ টাকা নেয়। এরপর তাদের ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার টাগারপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাখেন।

ওই দিন ঘুরতে যাবার কথা বলে মাজেদ আলীকে বাসা থেকে ডেকে নেন বুলু। মাজেদ রাতে না ফিরলে স্ত্রী নাজমা কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় বুলু পালিয়ে যান। পরে র‌্যাব-১১ তে অভিযাগ করলে ৮ এপ্রিল ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে মহিউদ্দিন বুলুকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নৌকার মাঝি সোহেলের নাম আসে। এরপর গত ১০ মে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে নৌকার মাঝি সোহেলকে আটক ও তার নৌকাটি জব্দ করা হয়।

সোহেল র‌্যাবকে জানায়, গত ১০ মার্চ মহিউদ্দিন বুলু, সুলতান মাহমুদ বাবু ও মাজেদ আলী এক হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যায় মহিউদ্দিন বুলু ও সুলতান মাহমুদ মাজেদ আলীকে নৌকার ছাউনির ভিতর নিয়ে মারধর ও গলাটিপে হত্যা করে তার লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

র‌্যাব আরও জানায়, অপর আসামি সুলতান মাহমুদ বাবুকে মঙ্গলবার ভোরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় আইনানুগ প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.