পাঠক সংখ্যা

  • 7,712 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

বিলুপ্তির পথে রজতরেখা নদী

মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী নদী রজতরেখা। নদীটিকে ঘিরে অনেক কবি ও লেখক তার লেখায় মুগদ্ধতা ছড়িয়েছেন। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ জেলার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রজতরেখা নামে একটি বাসও প্রদান করেছে। অন্যদিকে রজতরেখা নামে স্থানীয় একটি পত্রিকা খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করছে। তবে খাতা-কলমে রজতরেখা জ্যোতি ছড়ালেও বাস্তবে দখল ও দূষণের কারণে বিলুপ্তির পথে রজতরেখা নদী।

পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর ও টংগিবাড়ী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে একেবেঁকে ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে মিশেছে। বর্তমানে রজতরেখা নদীর উৎপত্তি স্থান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে দখলবাজদের আগ্রাসী থাবা।

নদীর দুই পাড় দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দখলবাজরা, নদীর উপর তারা বানিয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট বানিয়ে করে চলছে রমরমা বালুর ব্যবসা। ক্রমাগত বেদখলে ৪শ ৮০ ফুট প্রস্থের নদীটি বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ ফুট এসে দাড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নদীটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীটির উৎপত্তি স্থল টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় পলি জমে নদী মুখ অনেকটা বন্ধ হয়ে আসছে। তার উপর পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে রজতরেখার উৎপত্তি স্থলের কয়েক ফুট দূরে চলছে প্রভাবশালীদের অবৈধ ভরাট কাজ। প্রভাবশালীরা নদীর পাশে পকেট তৈরি করে রমরমা বালুর ব্যবসা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। উৎপত্তিস্থল হতে প্রায় ২ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এক শ্রেণির স্বার্থলোভী প্রভাবশালীরা নদীটি ভরাট করছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ের ভূমি অফিসের অসৎ কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালী দখলবাজরা নদীর জায়গার ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে নিয়েছে, তৈরি করেছে জাল দলিল। এসব ভুয়া জাল কাগজপত্র সম্বল করেই নানা রকম মামলা ঠুকে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি, সেই সাথে পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দখল করে নিচ্ছে নদীর সীমানা। তাই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পরিবেশবাদী শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন জানান, রজতরেখা নদী দখলে খুব একটা বাধার মুখে না পড়ায় দখলদারদের নজর এখন নদী ও খালের জমির ওপর। বর্তমানে প্রভাবশালীরা আর লুকিয়ে নয়, প্রকাশ্যেই এ বেআইনি কাজ করে চলেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঢিলে ভাবের কারণেই দখলদারদের সাহস বাড়ছে। ফলে দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীর মতো জলাশয়ের জমি, বাড়ছে দূষণ।

ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, ধবধবে সাদা উত্তাল জলরাশির জন্যই নদীটির নামকরণ রজতরেখা করা হয়েছে। তবে কালের বিবর্তনে সে ধবধবে উত্তাল জলরাশি হারিয়ে নাব্যতা সংকটে নদীটি শুকিয়ে এখন মৃতপ্রায়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে সামান্য জল থাকলেও বাকি সারা বছর নদীটি শুকিয়ে নিছক এক নালায় পরিণত হয়।

টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার জানান, নদীর উৎপত্তি স্থানে অবৈধভাবে ভরাট কাজ চলছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। কাউকেই নদী দখল করতে দেওয়া হবে না।

রিয়াদ হোসাইন
দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.