পাঠক সংখ্যা

  • 8,785 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

স্বপ্ন পূরণ হলো না সোনিয়ার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়ে ট্রলার ডুবে আহত সোনিয়া মারা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সোনিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের আঁধারমানিক গ্রামের আওলাদ হোসেনের কন্যা। মুন্সিগঞ্জের সরকারি হরগংগা কলেজে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

সোনিয়ার আত্মীয় সাগর মিয়াজী এ তথ্য জানিয়েছেন। সোনিয়ার মরদেহ শুক্রবার রাতেই গ্রামে এসে পৌছবে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিকশা চালিয়ে আওলাদ হোসেন যা রোজগার করতেন তা দিয়েই কোনো রকম সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। তিন মেয়ে আর এক ছেলেকে পড়াশোনা করাতে হিমসিম খেতে হতো তাকে। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে বড় মেয়ে সোনিয়াকে (২১) বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখনই বিয়ে করার ব্যাপারে অমত দিয়ে সে স্বপ্ন দেখছিল শিক্ষকতার। সে জন্য মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল সোনিয়া। কিন্তু ট্রলার ডুবে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলো সোনিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

গত ৩১ মে (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গজারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী ট্রলারটি মেঘনা নদীর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও থানা এলাকার চরহোগলা অতিক্রমের সময় ইট ভর্তি একটি বালহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় আহত সোনিয়াকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সর্বশেষ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসা দেয়া হচ্ছিল।

সোনিয়ার বাবা আওলাদ হাসেন জানান, মেয়ের ‘ডান পায়ের রগ ছিঁড়ে গেছে, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরের কয়েকটি স্থান থেতলে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার পর এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তারপর মেয়ের মোবাইল থেকে সিম বের করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাৎক্ষণিক ওই হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয় সোনিয়াকে।

-অবজারভার

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.