পাঠক সংখ্যা

  • 8,785 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

৫০ শয্যার জনবলে চলে ১০০ শয্যার হাসপাতাল!

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল৫০ শয্যার জনবল দিয়ে ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল চলছে। গত ১৩ বছর ধরেই এভাবে চলছে হাসপাতালটি। চিকিৎসকের ৩১ পদ থাকলে হাসপাতালে আছে মাত্র ১৫ জন। চিকিৎসা সেবা চালু রাখতে কিছু চিকিৎসককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রেষণে এনে সংযুক্ত করা হয়েছে।জনবল সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। ফলে হাঁচি-কাশির রোগীকেও রেফার করে ঢাকায়। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরপর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্রাদাররা (নার্স) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। তাই, বেশিরভাগ পরীক্ষা করাতে হয় বাইরে থেকে। অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে চলে প্রতারণা। ডাক্তার দেখিয়ে বের হলেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে চলে দালালদের টানাটানি।হাসপাতালে পরিবেশও নোংরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক্সরে, প্যাথলজিসহ যেসব যন্ত্রপাতি আছে সবগুলো অ্যানালগ প্রকৃতির। ডিজিটাল চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে এসব মেশিন ব্যবহার করা খুব দুঃখজনক। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পদের বিপরীতে ৫০ শতাংশের কম চিকিৎসক আছেন। হাসপাতালে নাক, কান, গলা, চোখ, ব্রেন, কিডনি, বক্ষব্যাধিসহ আরও অনেক চিকিৎসক নেই। জরুরি বিভাগে ৩ জন চিকিৎসকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন দু’জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ নেই। হার্টের রোগীকে কোনও চিকিৎসা দেওয়া যায় না। স্ট্রোক করলে রোগীর সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। কিন্তু এখানে সিটি স্ক্যানও নেই। দুপুর ২টার পর থেকে আলট্রাসনোগ্রাম ও প্যাথলজি বন্ধ হয়ে যায়।’

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও)শাখাওয়াত হোসেন জানান, চোখ, নাক, কান, গলা বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। এমন রোগী এলে কোনও সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এক্সরে মেশিনসহ যেসব মেশিন রয়েছে সেগুলো পুরনো আমলের। ডিজিটাল কোনও মেশিন এখানে নেই।

অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভোগান্তি

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও দু’জন চালক আছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স নিতে গেলে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়। ডাক্তারের নির্দেশনা থাকলেও রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয় না।ফলে চালকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে।২৪ মে খোরশেদা বেগম নামে এক রোগীকে ঢাকা নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মারা গেলে রোগীর স্বজনরা চালক জসিমকে দায়ী করে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে অকপট স্বীকারোক্তি দেয় অ্যাম্বুলেন্স চালক জসিম। তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করতে হয়েছে তাই অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছি।’

ভোগান্তির ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। জনবল বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসপাতালের নতুন ভবনএদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ১৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হচ্ছে না। ভবনটি উদ্বোধন হলে হাসপাতালটি মোট ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে। প্রায় তিন বছর আগে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নতুন ভবনটি হস্তান্তর করার কথা ছিল পূর্ত বিভাগের। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত তা হয়নি।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন জনবল নিয়োগের আগ পর্যন্ত ভবনটি উদ্বোধন করা হবে না। তারপরও আমরা চিন্তা করছি নতুন হাসপাতাল ভবনে বর্হিবিভাগ চালু করা যায় কিনা।’

তানজিল হাসান
বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.