মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,716 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

যাতায়াতে নৌকাই ভরসা

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল: সিরাজদীখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাঝি ও মিস্ত্রিরা। নিচু এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন হয় নৌকার। নাগরিক জীবনে এ কারণে কদর বেড়ে যায় কাঠের তৈরি এ যানটির। আবহমানকাল থেকে এই এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে কোশা নৌকা ব্যবহার করে আসছে। বর্ষার পানিতে যখন খাল-বিল ও বাড়ির চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করে তখন মানুষজন কোশা নৌকার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।

বর্ষাকালে নিচু এলাকায় বসবাসকারী লাখো মানুষের চলাচলে এ সময়ে নৌকার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ষার পানিতে প্লাবিত এসব এলাকার জেলেরা নৌকা দিয়ে রাতদিন মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারে যাতায়াত করে থাকেন। কৃষিপণ্য বহনে কোশা নৌকাই কৃষকদের একমাত্র ভরসা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কাঠমিস্ত্রিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরিতে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে এখন নৌকা তৈরি ও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। উপজেলার ইমামগঞ্জ বাজার, মালখানগর এবং ইছাপুরা বাসস্ট্যান্ডের পাশে গড়ে উঠেছে ডিঙি ও কোশা নৌকা তৈরি ও বিক্রির বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে এ নৌকার ব্যবহার কমলেও বর্ষা মৌসুমে এখনও এর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে এ পেশার সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টার দাবি জানিয়েছেন মিস্ত্রিরা।

সিরাজদীখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘নৌকা তৈরি করা আমাদের পারিবারিক পেশা। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে নৌকা তৈরির কাজ করছি। বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজ বেড়ে যায়। নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোনো কাঠ নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার হয় না। আগে ভালো কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করতাম। এখন কড়াই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশি নৌকা তৈরি করি। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তারকাটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে। দু’জনে প্রতিদিন দুইটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করতে পারি। ভালো একটি নৌকা তৈরিতে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা খরচ হয়। বিক্রি হয় ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়। তবে এবার বিলে পানি না থাকায় আগের মতো নৌকার চাহিদা নেই।

সিরাজদীখানের ইউএনও আশফিকুন নাহার বলেন, কোশা নৌকা নির্মাণ ও ব্যবহারের সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ বাহনকে ধরে রাখতে এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্নিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কোশা নৌকাসহ নির্মাণ শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

সমকাল

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.