মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,716 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

সিরাজদিখানে চন্দনধূল স্কুলে বারান্দায় পাঠদান

প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্ট
পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। বারান্দায় নেই বৈদ্যুতিক পাখা, পর্যাপ্ত বেঞ্চ। এ চিত্র মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান ৭৫ নম্বর চন্দনধূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তবু থেমে নেই কার্যক্রম। প্রত্যন্ত চন্দনধূল গ্রামের শিশুদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এ স্কুল।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৩৯ সালে চন্দনধূলের তালুকদার গ্রামের কিছু শিক্ষিত ব্যক্তি নিজেদের টাকায় ৩৬ শতাংশ জমি দিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি সরকারি করা হলেও এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। শ্রেণিকক্ষে জায়গা না থাকায় ৭৫ নম্বর চন্দনধূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ও বারান্দায় পাঠদান চলছে। জানা যায়, স্কুলের লেখাপড়ার মান ভালো এবং ফলাফলও অন্যান্য স্কুলের তুলনায় ভালো। কিন্তু স্কুলে নির্মাণ হচ্ছে না নতুন ভবন। এ যাবত দু’টি ভবন নির্মাণ করা হলেও একটির অবস্থা জরাজীর্ণ। গাদাগাদি করে বসেও ১৬০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস রুমে জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় চলে পাঠদান। জীর্ণ ছাদের প্লাস্টার, বিম প্রায়ই খসে পড়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় পরিত্যক্ত ভবন ছাড়াও বারান্দায় নিয়মিত ক্লাস নেয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। মাধবী রানী দাস, পিংকি আক্তার মরিয়মসহ অনেক অভিভাবক বলেন, স্কুলটি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত। আমাদের সন্তানরা অনেক কষ্ট করে ক্লাস করে। স্কুলের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন মৃধা বলেন, ‘আমাদের স্কুলের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সবাই মিলে যতটুকু পারছেন সহযোগিতা করছেন। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের সংকট। নতুন ভবন হলে কক্ষ সংকট থেকে আমরা মুক্তি পেতাম। পর্যাপ্ত বেঞ্চ থাকলে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণ করতে পারত। আমরা একাধিকবার সমস্যাগুলো ওপর মহলকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। প্রধান শিক্ষিকা জাহান আক্তার জানান, অফিস, শিক্ষক মিলনায়তন ও পরিত্যক্ত ভবন বাদে মাত্র ১টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ১টি কক্ষে ১৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠ সম্ভব না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবন এবং বরান্দায় বাধ্য হয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। অনেকেই তাদের সন্তানকে এ স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। আমরা অনেক কষ্ট করে পাঠদান করাচ্ছি। শত সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর ভালো ফলাফল করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি এ স্কুলের সব সমস্যা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি তারা এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেবেন।

যুগান্তর

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.