আওয়ামী লীগের পালে হাওয়া, বিএনপি চুপ

ফুরফুরে মেজাজে বিকল্পধারা ♦ শক্ত অবস্থানে জাপা
সদ্য সংরক্ষিত আসনের এমপি ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করায় জেলা আওয়ামী লীগের পালে নতুন হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন পর জাতির জনকের স্নেহধন্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে প্রতিমন্ত্রী পেয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে আনন্দ বইছে। ইতিমধ্যে ইন্দিরাকে মীরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনের সভাপতিত্বে নেতা-কর্মীরা গণসংবর্ধনা দিয়েছেন। এদিকে বিকল্পধারা মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে আর বিএনপি খানিকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এখানে জাতীয় পার্টিও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের তেমন কোনো ভিত নেই। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও সবকটি আসনে নৌকার বিজয় হয়। যদিও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিকল্পধারার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তবে তার প্রতীক ছিল নৌকা।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে এমপি হিসেবে রয়েছেন বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। এ জেলার ওপর দিয়ে পদ্মা সেতু, ছয় লেন মহাসড়ক, মেট্রোরেল, ইপিআই ওষুধ শিল্পপার্ক, প্লাস্টিক কারখানা জোন, ছোটবড় শতাধিক ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। মাহী বি চৌধুরী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে এলাকাবাসীর মন জয় করার চেষ্টা করে চলেছেন।

অধ্যাপিকা সাগুফতাইয়াসমিন এমিলির এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকার মানুষের বসতভিটা জমিজিরাত অধিগ্রহণে সহায়তাসহ কঠোর পরিশ্রম করে সরকার ও দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন। এমপি অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্দি দাস ওষুধ শিল্পপার্ক এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে সুনাম অর্জন করেছেন। জেলায় নতুন পাসপোর্ট অফিস ভবন, নতুন ফুড অফিস ভবন, নতুন পোস্ট অফিস ভবন, আলু গবেষণাগার চালু, গজারিয়ার ফুলদি নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ এবং মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া সরাসরি যোগাযোগের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু ও নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকা বাস্তবায়ন করেছেন।

ঝিমিয়ে পড়েছে বিএনপি : একসময়ে বিএনপি নেতাদের দাপটে মুন্সীগঞ্জ ছিল আন্দোলন সংগ্রামের শীর্ষে। কিন্তু এখন দলের নানা কর্মসূচি দেখলে মনে হয় ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলা বিএনপিতে কোনো বিরোধ নেই। তবে বহুদিন দল ক্ষমতায় না থাকায় অনেকে সরকার দলে আবার কেউ জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসন এলাকায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা শাহ্ মোয়াজ্জেম। মুন্সীগঞ্জ-২ আসন এলাকায় বিএনপি নেতা এম শামসুল ইসলামের ছেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বাবু ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন এলাকায় রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক রতন। মামলা হামলার ভয়ে অনেকেই দলীয় কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকেন।

শক্ত অবস্থানে জাতীয় পার্টি : মুন্সীগঞ্জে জাতীয় পার্টি বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জাতীয় পার্টি এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
জামায়াতের কোনো ভিত নেই : জামায়াতের তেমন কোনো ভিত নেই। এ সরকারের প্রথমদিকে জামায়াত-বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতেও মুন্সীগঞ্জে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফুরফুরে মেজাজে বিকল্পধারা : বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরী আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এ কারণে এখানে বেশ ভালো অবস্থানে আছে দলটি।

বিডি প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.