মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,283 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

পদ্মা সেতুর আরও ছয় স্প্যান প্রস্তুত – তবে বাধা নাব্য সঙ্কট

চলছে অবিরাম ড্রেজিং
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল: প্রকৃতি থেকে বর্ষার পর শরতও বিদায় নিতে যাচ্ছে। হেমন্ত আসন্ন। কড়া নাড়ছে শীত। কিন্তু পদ্মায় পানির দাপট কমছে না। বর্ষা পানি নেমে যাওয়ার পর আরও দু’বার পানি বিপদ সীমানার কাছাকাছি চলে আসে। এসব নানা কারণে এবার পদ্মা সেতুর চ্যানেলে ব্যাপক পলি জমা হয়েছে। একদিক দিয়ে ড্রেজিং করে এই পলি অপসারণ করা হচ্ছে। আরেক দিক দিয়ে নতুন করে পলি জমা হচ্ছে। অবিশ্বাস্য রকমের এই পলির কারণে চ্যানেলে স্প্যানবহনকারী জাহাজ প্রবেশ করতে পারছে না। তাই ছয়টি স্প্যান স্থাপনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সত্ত্বে তা স্থাপন করা যাচ্ছে না। স্প্যান চূড়ান্ত করা ছড়াও খুঁটিগুলোও পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। শুধু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নাব্য সঙ্কট। তাই এখন সমানে চলছে ড্রেজিং। শুক্রবার বিকেলে দায়িত্বশীল এক প্রকৌশললী জনকণ্ঠকে জানান, সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ১৫তম স্প্যান বসানো সম্ভব হবে। ‘৪ই’ নম্বর এই স্প্যান বসবে সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটিতে। এরপর ‘৪ডি’ নম্বর স্প্যান বসবে ২২ ও ২৩ নম্বর খুঁটির ওপর। এছাড়াও ১৯ ও ২০ এবং ২০ ও ২১ নম্বর খুঁটির ওপর আরও দু’টি স্প্যান চলতি মাসেই বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর এই প্রকৌশলী জানান, এখনও তীব্র স্রোত বহমান রয়েছে। সেতুর চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণ পলি জমে চর হয়ে যায়। ড্রেজিংয়ের নাব্যতা ফিরছিল। কিন্তু সবশেষ ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ার পর আরেক দফা পানির ধাক্কায় ফের পলি বেড়ে যায়। তাই আবার পিছানো হয় স্প্যান বসানোর কাজ। পুরো দমে চলে ড্রেজিং। স্প্যান এবং খুঁটি প্রস্তুত থাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানেই এখন আরও কয়েকটি স্প্যান খুঁটিতে উঠানো হবে।

পদ্মা সেতুর বহরে আরও দু’টি স্প্যান যুক্ত হয়েছে। চীন থেকে সমুদ্র পথে হয়ে পরে নদী পথে এগুলো কয়েকদিন আগে মাওয়ার বিশেষায়িত ওয়ার্কশপে খালাস হয়েছে। এই নিয়ে সেতুর ৪১ স্প্যানের মধ্যে ৩০ স্প্যানই এসে পৌঁছেছে। আর বাকি মাত্র ১১ স্প্যান এখন চীন থেকে সমুদ্র পথে আসছে বা আসার প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদিকে স্প্যান আসার পাশাপাশি খুঁটিও সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এপর্যন্ত ৩১ খুঁটি প্রস্তুত রয়েছে। এই সম্পন্নের তালিকায় হয়তো চলতি মাসেই আরও দুই খুঁটি যুক্ত হবে। এই দুই খুঁটি ৩১ ও ৩২ সম্পন্ন হওয়ার পথে। ৩২ নম্বর খুঁটির মাথায় শেষ দিকের ঢালাই বাকি মাত্র। ৩১ নম্বর খুঁটির ঢালাইও শেষে পর্যায়ে পৌঁছতে কাজ চলছে।

এদিকে গত ২ অক্টোবর মূল সেতুর অগ্রগতি সভায়ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পদ্মা সেতুর এক নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় সভাটিতে সেতুর কাজে এখন আর কোন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ না থাকায় দ্রুত কাজ সম্পন্নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। সভাটিতে সেতুর শুষ্ক মৌসুমের কাজে বিশেষ গতি আনার বিষয়েও আলোচনা হয় পর দিন ৩ অক্টোবর পদ্মা সেতুর নদী শাসনের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরেকটি সভা হয়। এই সভায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে নদী শাসনের কাজসহ অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে নদী শাসন কাজের অগ্রগতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা উঠে আসে এই সভায়। নদী শাসনের কাজ আগামী নবেম্বরে পুরোদমে শুরু হবে।

নদী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রকৌশলী শুক্রবার জনকণ্ঠকে বলেন, মাওয়া প্রান্তের আবহাওয়া অফিস দ্বিতীয়বারের মতো নিলাম করা হয়েছে। এটি নিলামে বিক্রির অপসারণের কাজ চলছে এখন। এর আগেই এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে মাওয়া প্রান্তের উজানে ড্রেজিং শুরু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের পরই বস্তা দেয়া হবে। পরে এ্যাঙ্কর ভিম বসানো হবে। ব্লকগুলো যাতে ধসে না যায়, সেজন্যই এই এ্যাঙ্কর ভিম। এ্যাঙ্কর ভিমের নিচে ৫ ফুট উচু করে সেখানে সিসি ব্লক বিছানো হবে। এ্যাঙ্কর ভিমের উপরের স্লোপেও এক লেয়ার করে সিসি ব্লক বিছানো হবে। মাইনাস ২.৪ থেকে মাইনাস ২৫ পর্যন্ত লেভেলে তিন ফুট উচু করে পাথর ফেলা হবে। এই পাথরের নিচে থাকবে তিন লেয়ার ১২৫ কেজি বালি ভর্তি জিও ব্যাগ। মাইনাস ২৫ লেভেলে থাকবে হরিজন্টালি এপ্রোন। ৮০০ কেজি পাঁচ লেয়ারে বালি ভতি জিও ব্যাগ ফেলা হবে এখানে। স্লপের টপ লেভেল থেকে শুরু করে স্লোপের বটম লেভল যেখানে মাইনাস ২৫ এর থেকে হরিজন্টালি নদীর দিকে এপ্রোন থাকবে। মাওয়া প্রান্তে নদী শাসনের কাজ টেকসই করার জন্য এই পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে বলে এই প্রকৌশলী জানান। এছাড়া এখন জাজিরা প্রান্তে নদী শাসনে বালুর বস্তা ফেলে এবং ড্রেজিং চলছে। নবেম্বরে জাজিরা প্রান্তেও নদী শাসনের কাজে আরও গতি আসবে। সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, পদ্মা সেতুর দু’প্রান্তের আরও প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগে সড়কের (ভায়াডাক্ট) কাজও অনেক এগিয়ে গেছে। জাজিরা প্রান্তে এই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মাওয়া প্রান্তের এই ভায়াডাক্টের কাজেও চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে। এদিকে স্প্যানের ওপর রেল ও সড়কের স্লাবও স্থাপন কাজ এগিয়ে চলেছে বলে দায়িত্বশীলা জানিয়েছেন।

পদ্মা সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। আর সেতুটির নক্সা প্রণয়ন করা হয় তারও দুই বছর আগে। চলতি বছরের জুলাই মাসে শেষ হয় পদ্মা সেতুর সব পিলারের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ। সেতুর মোট ৪২ খুঁটির মধ্যে ৪১ স্প্যান বসবে। এ পর্যন্ত চীন থেকে মাওয়ায় এসেছে ৩০ স্প্যান। ১৪ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সেতু দৃশ্যমান হয়েছে ২.১ কিলোমিটার।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.