মা ইলিশ শিকার চলছেই হাট বসে গভীর রাতে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত, মৎস্য অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে চলছে মা ইলিশ আহরণ উৎসব। একাধিক অভিযানে এ পর্যন্ত ২০ জেলেকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিলেও মা ইলিশ ধরার কার্যক্রম থেমে নেই জেলেদের। রোববার লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে জেলেদের সংঘবদ্ধ একটি দলকে মা ইলিশ ধরায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। প্রতিদিনই জাল ফেলে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ, আবার পদ্মার চরে গভীর রাতে হাট বসিয়ে ইলিশ কেনাবেচার ধুম পড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের কোরহাটি, শাহিনহাটি, পাইকারা ও তেউটিয়া চরে ইলিশ মাছ বিক্রির হাট বসানো হচ্ছে প্রতিদিন। একই উপজেলার জশলদিয়া বাজারের পেছনে ডালিম গাজীর বাড়ির সামনে ও নদীতীরে রাত ৩টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মা ইলিশ নিয়ে সাত থেকে আটটি ট্রলার ভিড়িয়ে ইলিশ ফেলানো হচ্ছে। রোববার সকালে লৌহজংয়ের ঘোরদৌড় বাজারের বরফকল থেকে বরফ নিয়ে পদ্মার চরে নিয়ে যেতে দেখেছেন অনেকেই।

এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেন, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শরীয়তপুরের জাজিরা সীমান্তবর্তী পদ্মাতীরের ছিডারচর ও বাবুরচরে জেলেদের জালে ধরা পড়া মা ইলিশ বিক্রির জন্য পদ্মার তীরে ভাসমান হাট দেখেছেন অনেক জেলে। হাটে জেলে ও ক্রেতাদের ভিড়। তীরে ভেড়ানো রয়েছে আট থেকে নয়টি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার। আর বসানো ভাসমান হাট থেকে মা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি দল ও খুচরা ক্রেতারা। মাইজগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, এলাকার একাধিক দল নদীতীরেই জেলেদের কাছ থেকে মা ইলিশ ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মাতীরের এ এলাকার মতো মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলাঘেঁষা পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে মা ইলিশ ধরার পর জেলেরা সেগুলো বিক্রি করছে নদীতীরের গ্রামগুলোর হাটে। দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান ও তৎপরতা থাকলেও রাতের বেলায় নদী হয়ে ওঠে অরক্ষিত। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মা ইলিশ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছেন জেলেরা। জেলা সদরের আধারা ইউপির চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর ও বকচর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিন শত শত কেজি মা ইলিশ ধরছেন ও বিক্রি করছেন জেলেরা। মেঘনাতীরের অঘোষিত ওই হাটগুলোতে প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন পাইকার ও খুচরা মৎস্য বিক্রেতারা। এসব অস্থায়ী হাটে ভাসমান আড়ত খুলে ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। সদরের চরআব্দুল্লাহ, বকচর, কালীরচর গ্রামঘেঁষা মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরার সঙ্গে ২০০ জেলে এখন সক্রিয় রয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, মা-ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিছু জেলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.