১২ টি ড্রেজারে দিবানিশি ড্রেজিং করে বৃহস্পতি বা শুক্রবার নৌপথ সচল করার চেষ্টা

পদ্মা নদীর কোন কোন অংশে গভীরতা তিন ফুট
পদ্মা নদী ঘুরে এসে জসীম উদ্দীন দেওয়ান : দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে নাব্য সংকট ও তীব্র স্রোতের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে শিমুলিয়া- কাঁঠালবাড়ির নয় কিলোমিটারের নৌ পখটি। তারই ধারাবাহিকতায় পাঁচ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফেরি চলাচল কখনো ব্যাহত, কখনোবা থাকে একেবারেই বন্ধ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিনগুলো অতিবাহিত হলেও, নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করলে ১৪ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন বন্ধ ফেরি চলাচল।

১৬ অক্টোবর বুধবার সরেজমিনে পদ্মা নদীতে যেয়ে দেখা যায় পদ্মার বিভিন্ন অংশে বিআইডব্লিউটিএর ১২ টি ড্রেজারে মাটি অপসরণ করে নৌ পথ সচল করার চেষ্টা চালানোর জন্য, সর্বোমোট ২৫০ জন শ্রমিক কর্মচারী মিলে কাজ করে যাচ্ছেন। এবার উদ্দেশ্য পুরাতন সোজা চ্যানেলটি চালু করা। সে লক্ষ্যে নাব্য ফিরিয়ে আনতে এই চ্যানেলের মুখে চালাচ্ছে পাঁচটি ড্রেজার। লগি পানিতে ফেলে গভীরতা মেপে দেখা গেছে এখনো কোথাও কোথাও তিন বা সাড়ে তিন ফুট পানি রয়েছে। কোন কোন অংশে উঁকি মেরে আছে ডু্বোচর।

এর সাথে ধাপটে বয়ে বেড়াচ্ছে ছয় নটিক্যাল মাইল বেগের ন্রোত। এই স্রোত কখনও কখনও ড্রেজার চালাতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। শুধু ড্রেজারের পাইপ নয়, নির্ধারিত স্থানে ড্রেজার রাখতেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রবল গতির এই স্রোত। স্রোতের সাথে লড়াই করে নদী খনন কাজ করে যাওয়ার কথা স্বিকার করলেও, এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকাল বা শুক্রবারের মধ্যে ফেরি চলাচলের জন্য লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের পুরাতন সোজা চ্যানেলটি খোলে দেওয়ার কথা জানান বিআইডব্লিউটি এর বাংলাদেশ ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান। তিনি জানান, ভারতে আকস্মিক বন্যার কারণে ফারাক্কা বাধের স্লুইচ গেইট খোলে দেওয়ায় উজানের পানি পদ্মায় নেমে আসে। এর সাথে প্রচুর পরিমান পলি এসে বিভিন্ন অংশে চর জাগতে থাকে। যা কেটে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে নতুন করে উজানের পানি আর না আসলে, তাদেরও বড় করে আর সমন্যায় পড়তে হবেনা বলে দাবি করেন সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ফেরি চলাচলের জন্য যে ছয় বা সাত ফুট গভীরের পানি প্রয়োজন হয়, সেই ব্যবস্থা করেই বৃহস্পতি বা শুক্রবার তারা এই পথ চালু করবে এবং খনন কাজ অব্যাহত রেখে পথ স্বাভাবিক রাখা হবে । এদিকে টানা ১২ দিন ধরে শিমুলিয়া ঘাটে থাকা শত শত পরিবহণের শ্রমিকেরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। নানান সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে খাবার ব্যবস্থা সংকট। ঘাটের চারিপাশে থাকা হোটেল ও খাবারের টং দোকানগুলো বিআইডব্লিটিএর উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙ্গে দেওয়ায় কারণে এই সমস্যায় পড়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.