গজারিয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৮ বছর স্বেচ্ছায় গুম!

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আট বছর স্বেচ্ছায় গুম হয়ে ছিলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সিরাজ হালদার (৩১)। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ সিআইডি পুলিশ।

এর আগে সোমবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার ব্রাহ্মণকিত্তা মিনার বাড়ি এলাকা থেকে সিরাজকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সিরাজ হালদার গজারিয়া উপজেলার চর রমজানবেগ গুচ্ছগ্রামের জালাল হালদারের ছেলে।

সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন দৈনিক অধিকারকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১২ সালে জালাল হালদারের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিক গংদের মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রফিক গংরা প্রতিপক্ষ জালাল হালদারের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

এ দিকে, মারামারির ঘটনার দুই মাস পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকা থেকে আত্মগোপন করেন জালাল হালদারের ছেলে সিরাজ হালদার। পরবর্তীকালে ওই ঘটনায় ২০১২ সালের মার্চ মাসে সিরাজ হালদারের বাবা জালাল হালদার বাদী হয়ে তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে এই মর্মে গজারিয়া থানায় ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি ও একই গ্রামের রফিক ও সাইজউদ্দিনকে গ্রেফতার করে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণসহ রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে গ্রেফতারকৃত ওই দুইজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

দীর্ঘ আট বছরেও পুলিশের ১৭ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে ভিকটিম সিরাজের কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। পরে সিআইডি পুলিশ গোপন সংবাদে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে সিরাজকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সিরাজ বিভিন্নস্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপন করে ছিল। আর এই সুযোগ নিয়ে মামলার বাদী সিরাজের বাবা জালাল হালদার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আমাদের কাছে তার ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য জোর তদবির করে আসছিল। বর্তমানে সিরাজ সিআইডি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। এ দিকে, সিরাজকে উদ্ধারের পর থেকে তার বাবা জালাল হালদার পলাতক রয়েছে।

সিআইডি পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রতিপক্ষ রফিকদের দায়ের করা মামলায় সিরাজ হালদারের এক বছর এবং জালাল হালদারকে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। এজন্য সিরাজকে ওই মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.