মুন্সীগঞ্জে নয় ডিসেম্বর অবৈধ ইট খোলা উচ্ছেদে নামবে প্রশাসন

জসীম উদ্দীন দেওয়ান : জেলার ৭৮ টি ইট ভাঁটার মধ্যে অবৈধই ৩৭টি। অবৈধ এসব ইট ভাটাগুলো সনাতন পদ্বতীর চিমনি ও আবাসন এলাকার এক কিলোমিটারের ভিতরে গড়ে ওঠায় পরিবেশ দূষনের পাশাপাশি, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে ইট ভাটার পাশের বাসিন্দারা। আর অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে ৯ ডিনেম্বর থেকে জোরে সোারে অভিযানে নামছেন কর্তৃপক্ষ। হাই কোর্টের নির্দেশে এবার যেন নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আর তাই জেলার অধিকাংশ ইট ভাটার স্থান সিরাজদিখান উপজেলা দিয়েই শুরু হচ্ছে অভিযানের যাত্রা।

পরিবেশ অধি দপ্তরের সূত্র মতে, ৭৮ টি ইট ভাঁটার মধ্যে সিরাজদিখানেই রয়েছে ৬৮ টি। বাকি ১০ টি গজারিয়া ও লৌহজং উপজেলায়। আবাসন এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইট খোলা থাকার অনুমোদন না থাকলেও, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ ইট ভাটাঁ আবাসন এলাকার কাছে গড়ে ওঠেছে। ফলে ফসলের ক্ষতির সাথে স্বাস্ব্য ঝুঁকিকে আছে এই অঞ্চলের মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালুর চর ইউনিয়নের ৬০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ জানান, তার বাড়ির খুব কাছে ২০ বছর ধরে বেশ কয়েকটা ইট ভাটা করা হয়েছে, যার ফলে তাদের আশে পাশে জমিতে ফসল হয়না।

কোন রকমের ফল দিচ্ছেনা, আমা জাম বা কাঁঠাল গাছের মতো ফলজ বৃক্ষে। শুধু ফসলই না, ইট ভাঁটার ধোঁয়ায়, মানুষের শ্বাস কষ্ট সহ নানা ধরনের রোগে পড়ছে এই অঞ্চলের মানুষ। এমনটা বললেন, এখানকার এক যুবক। অন্য দিকে হাজার হাজার শ্রমিকদের যাতে বেকার হয়ে পড়তে না হয়, সে দিকটা বিবেচনা করে ইট ভাঁটা বন্ধ না করে, সেগুলো উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করে, সেই অঞ্চলে সরকার যাতে ইট ভাঁটা তৈরী করার ব্যবস্থা করে দেন, এমন দাবিও কারো কারো।

কেহ কেহ আবার সরকারের নির্দেশনা মেনে, পরিবেশ রক্ষায় সনাতন পদ্ধতীর চিমনি বদলিয়ে, জিকজাক পদ্ধতীর চিমনি তৈরী করছেন। তবে সেগুলোর মিলেনি এখনো কোন ছাড়পত্র। সনাতন পদ্ধতীর এক ইট ভাঁটার মালিক বলেন, এবার সিজনের জন্য শ্রমিকদের অগ্রিম মজুরি বাবদ ৮০ লাখ টাকা দাদান দিয়েছে, অন্তত আর তিনটা মাস সময় পেলে তিনি কাজ করিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে সে টাকা উদ্ধার করতে পারবে। এরপর ভাঁটা ভেঙে দিলেও, এতে করে কিছুটা লোকসান পোষাতে পারবে বলে জানান তিনি। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো : নয়ন মিয়া ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, হাই কোর্টের নির্দেশ মতে,অবৈধ ইট খোলা উচ্ছেদে আগামী সোমবার থেকে অভিযানে নামবে তাঁরা।

ইট ভাঁটার দুষিত ধোঁয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে মানব দেহের ফুস ফুস ও কিডনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.