মুন্সীগঞ্জে উপসর্গ ছাড়াই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

মুন্সীগঞ্জে গত দুই সপ্তাহে ৫৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের বেশির ভাগ শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল না। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা করে তাদের করোনা সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। উপসর্গ না থাকা অবস্থায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

তারা বলছেন, এমনটা হলে বোঝার সাধ্য নেই কে আক্রান্ত, কে আক্রান্ত নয়। উপসর্গহীন ব্যক্তি সবার মাঝে ঘুরে বেড়ালেও কেউ সাবধান হতে পারবেন না। ফলে আরও অনেকের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীর ৯০ শতাংশরেও বেশি রোগীর শরীরে কোন উপসর্গ নেই। বাকিদের মাঝে দেখা গেছে মাঝারি থেকে মৃদু উপসর্গ। আবার অনেকের করোনা ‘পজিটিভ’ পাওয়ার সময় উপসর্গ ছিলো। কিন্তু এখন নেই। তারাও এখন ভালো আছেন।

সিভিল সার্জন জানান, মুন্সীগঞ্জের করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভালো আছেন। বেশিরভাগ রোগীই তাদের নিজ বাসায় সঙ্গরোধ অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়ে উদ্বেগ কম। প্রথম যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ অন্য এলাকা থেকে ফিরেছেন। এখন পূর্বে করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে নতুনদের অধিকাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গ না থাকাটা ভালো আবার নতুন কেউ তার সংস্পর্শে এসে নিজের অজান্তেই আক্রান্ত হলে সেক্ষেত্রে খারাপ। এছাড়া আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অনেকেই গোপন করছে। এতে তথ্য গোপন করায় আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, উপসর্গ নেই বলে তারা বাইরে ঘুরছেন কিন্তু দেখা গেলো তার সংস্পর্শে নতুন একজন আক্রান্ত হলো। সেই জন্য ঘরে থাকাটাই বেশি দরকার। এখনই সবকিছু ভালো ভালো বলে আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না।

সিভিল সার্জন আরো বলছেন, উপসর্গ থাকুক আর না থাকুক যারা সরাসরি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা যাদের জ্বর-সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ রয়েছে, তাদের পরীক্ষা করে দেখার যে নিয়ম, তাই মেনে চলা হবে।

উল্লেখ্যে, বুধবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এরমধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি ৫ জনের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে করোনার উপস্থিতির নিশ্চিত করা যায়। এরমধ্যে সদর উপজেলায় মৃত তিনজনসহ ১৬জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ১১জন, টংগিবাড়ী উপজেলায় মৃত দুইজনসহ ১০জন, গজারিয়া উপজেলায় ৮জন , শ্রীনগর উপজেলায় ৭ জন ও লৌহজং উপজেলায় মৃত একজনসহ ৫জন রয়েছেন ।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.