করোনা আক্রান্ত ডিসির জন্য ডালাভর্তি ফল পাঠালেন এসপি

করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধা জেলা প্রশাসকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় শুভেচ্ছা স্মারক পাঠিয়েছেন আরেক সম্মুখ যোদ্ধা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। তিনি নানা রকমের ফলের ডালা সাজিয়ে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পৌঁছে দেন। আকর্ষণীয় একটি ডালার মধ্যে আনারস, কলা, বাঙ্গি, আম, বেদেনা, নাশপাতি, আঙ্গুর, মাল্টাসহ হরেক রকম ফলে নান্দনিক ভাবে সাজানো ছিল।

এতে লেখা ছিল-

‘করোনার সম্মুখ যোদ্ধার দ্রুত সুস্থতার প্রত্যাশায় -পুলিশ সুপার, মুন্সিগঞ্জ’ ।

এই স্মারক পৌঁছে দেয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের সহমর্মিতা প্রকাশ হিসাবেই এ শুভেচ্ছা স্মারক পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আমরা একটা টিমে কাজ করছি। আমাদের টিমের সদস্য করোনায় শনাক্ত হওয়ায় আমাদের মমত্ববোধ প্রকাশ করা মানবিক দায়িত্ব।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি এখন সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনের রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি জেলা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন ই-নথির মাধ্যমে। অনেক দিন ধরেই সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় ই-নথির মাধ্যমে। এই ই-নথি ব্যবস্থার কারণে কোন ফাইলই আটকে থাকছে না। মানবিক সহায়তাসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন প্রযুক্তির কল্যাণে। জেলা প্রশাসকের করোনা পজিটিভ নিয়েই এখনও জেলাবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন সবখানে। পত্রিকার রিপোর্ট পরে বিভিন্ন সমস্যাদিরও সমাধান করছেন। জেলা প্রশাসকের শরীরে এখনও করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) করোনা শনাক্ত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করানো হয়। এতে জেলা প্রশাসকের করোনা পজিটিভ আসে। একই সাথে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক (ডিডি-এলজি) এসএম শফিকেরও করোনা শনাক্ত হয় একই দিনে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের দু’জন গাড়ি চালকের দেহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। সবাই স্ব স্ব বাসভবনে আইসোলেমনে আছেন।

করোনায় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুলিশ সুপারও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর নানা রকমের ফলের এ শুভেচ্ছা স্মারক পাঠিয়ে সেই বন্ধনকেই দৃঢ় করেননি বরং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেশব্যাপী সু-সমন্বয়েরও একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বলে অনেকই মনে করছেন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশের সুপারের এ মমত্ববোধ স্থানীয় প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রথম থেকেই আমরা এক সাথে কাজ করছি। মরণব্যাধি এই করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে জেলা প্রশাসক বিচক্ষণতার সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ জেলাকে সুরক্ষায় তথা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাহসী ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু তার করোনা শনাক্ত হলো, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই এই করোনা। আমারা সবাই ডিসি মহোদয়ের পাশে আছি। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এই কামনা আমাদের।

একইভাবে পুলিশ সুপারের এই ফলের ডালায় শুভেচ্ছা স্মারক পাঠিয়েছেন করোনা শনাক্ত হওয়া জেলা প্রশাসনের আরেক দুই কর্মকর্তা ডিডি-এলজি এসএম শফিক এবং এডিএম খান মো. নাজমুস সোয়েবের সরকারি বাসভবনে। পুলিশ সুপারের এই আন্তরিকতায় তিন কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের সবাই খুশি। আইসোলেশনে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন কর্মকর্তা। তারা সবার দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.