ঘরমুখো মানুষ ফেরাতে গজারিয়ায় মহাসড়কে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে বহির্গমনে বিপুলসংখ্যক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্য ব্যক্তিগত যানবাহন ফেরত পাঠাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গজারিয়ার ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে জেলা পুলিশ এ তৎপরতা শুরু করে।

এ সময় লকডাউনের আওতামুক্ত মহাসড়কে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া চলাচলে নিষিদ্ধ করা কয়েক হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি পুলিশ থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

এই কর্মসূচিতে গজারিয়া থানার ওসি তদন্ত মামুন আল রশিদ, ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মজুমদার, গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইমারত হোসেনসহ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটারে কঠোর অবস্থানে সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের আটকে দেয়া বেশিরভাগ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেলগুলো নানা অজুহাতে মহাসড়কে বের হচ্ছে।

ব্যক্তিগত ওই পরিবহনগুলোর যাত্রীরা ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন এবং কেউ কেউ ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় গ্রামের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকায় প্রবেশ বা বাহির হওয়ার জন্য যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ অনেকটা কম রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য বিপুল পরিমাণ যানবাহন বের হয়ে যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেল আশফাকুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, আইজিপির নির্দেশে ডিআইজির পরামর্শে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেউ যাতে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকায় প্রবেশ বা ঢাকা থেকে বের হতে না পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ার অংশের মেঘনা ব্রিজ ও গোমতি ব্রিজের নিচে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যৌক্তিক কারণ ছাড়া যে সব গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করছে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

হাইওয়ের নারায়ণগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক জানান, ১৩ কিলোমিটারের কোনো জায়গা থেকে অন্য কোনো জেলায় যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। অন্য কোনো জেলা থেকেও ঢাকায় প্রবেশও সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.