পদ্মায় ট্রলার ডুবিয়েও সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না নৌপুলিশ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরিতে যাত্রী পারাপার বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন করে জরুরি পণ্যবাহী ৪০০ ট্রাক ঘাটে পারাপারে লাইনে রয়েছে। এ দিকে আটকে থাকা আগের ২০০ ট্রাক পার করে দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, যাত্রী আর পারাপার হবে না। ফেরিও ঘাটে রাখা হয়নি। নদীতে নোঙর করা হয়েছে। সুযোগমতো পার করে দেয়া হবে। এ নৌরুটে কোনো নৌযান চলাচল করছে না। তবুও বৃহস্পতিবার কিছু লোক পারাপারের আশায় শিমুলিয়া আসে। চোরাই পথে পারাপারের সময় ৩২টি ট্রলার পদ্মায় ডুবিয়ে দিয়েছে নৌপুলিশ। ট্রলার ডুবিয়ে দিয়েও এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না নৌপুলিশ।

এ দিকে ঘাটে লঞ্চ, সি-বোট ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এবং ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে আসা যাত্রীরা শ্রীনগরের কবুতরখোলা, লৌহজংয়ের কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, শিমুলিয়া বাজার ও বাজার বরাবর চর, লৌহজং বরাবর পদ্মার চর, মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট ও মাওয়া মৎস্য আড়ত সংলগ্ন নদী তীরবর্তী এলাকা দিয়ে স্থানীয় লোকজনের পরিচালিত ট্রলারে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে। শুধু ট্রলারই নয়, বালু টানা বাল্কহেড ও মাছ ধরার ট্রলারেও পার হচ্ছে মানুষ। সরেজমিনে নদী তীরবর্তী এলাকা যশিলদিয়া গিয়ে দেখা যায়, এখানে কয়েক ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ট্রলারে ও বালু টানার বাল্কহেডে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে যাত্রীদের পদ্মা নদী পারাপারে সুযোগ করে দিচ্ছে। ৫০০ টাকার মধ্যে ২৫০ টাকা নিচ্ছে চেয়ারম্যানের মেয়ের জামাই সিন্ডিকেটের মূল নায়ক সুমন। বাকি ২৫০ টাকা পাচ্ছেন ট্রলার মালিক। এ পর্যন্ত ৮০০ জনের ওপরে লোকজন পারাপার করে দিয়েছে এই সুমন সিন্ডিকেট।

ফেরি বন্ধ থাকায় ট্রলারে করে গন্তব্যে ছুটছে মানুষ

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, বুধবার পর্যন্ত ঘাট এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে ছিল পারাপারের জন্য। রাতে এগুলো পার করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘাটে নতুন করে আরো পণ্যবাহী প্রায় ৪০০ এসেছে। সুযোগমতো জনস্বার্থে এগুলো পার করে দেয়া হবে। এ ছাড়া জরুরি পরিসেবার কোনো গাড়ি এলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সেগুলো পার করা হবে। তবে কোনো মতেই এখন এই ঘাট দিয়ে কোনো যাত্রীবাহী গাড়ি বা যাত্রী পার করা হবে না। দ্রুত সুমনকে আইনের আওতায় আনারও কথা বলেন নৌপুলিশের এই কর্মকর্তা।

শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে সকল প্রকার চলাচল বন্ধ থাকায় এসব যাত্রীর চোরাই পথে পারাপার করতে এক শ্রেণীর অসাধু ট্রলার ও সিবোট চালকরা তৎপরতা চালায়; তবে শিমুলিয়া ঘাট থেকে নয়। পুলিশের নজরদারি এড়াতে তারা মাওয়া পুরনো ফকিরবাড়ি ফেরিঘাট থেকে ট্রলারে করে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। খবর পেয়ে নৌপুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে ৪৮টি ট্রলার ও ২টি সিবোট আটক করেছে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.