শিমুলিয়া ফেরিঘাট যাত্রীশূন্য, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

দক্ষিণ বঙ্গের ২৩ জেলার একমাত্র প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরিঘাট। ঈদকে সামনে রেখে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গত কয়েকদিনে হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ ঘাট এলাকায় অবস্থান করে। গণজমায়েত বন্ধ এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় কঠোর অবস্থানে কাজ করে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। এতে করে গত ২ দিন ধরে শিমুলিয়া ঘাট যাত্রী শূন্য হয়ে পড়ে। সোমবার (১৮ মে) বিকেল থেকে করোনার দূর্যোগ ও ঘূর্নিঝড় আম্পানের কারনে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডাব্লিউটিসি ও বিআইডাব্লিউটি এ কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিজ খরচে পরিবহনের ব্যবস্থা করে শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রায় আড়াই হাজার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদেরকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফেরত পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকালেও বিভিন্ন পথে শিমুলিয়া ঘাটে আসা ঘরমুখো মানুষদের বিভিন্ন গন্তেব্যে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকেই যাত্রীশূন্য রয়েছে শিমুলিয়া ফেরিঘাট এলাকা। তবে ঘাট এলাকায় বিভিন্ন পন্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও পন্যবাহী ট্রাক শতাধিক ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি নিত্য প্রয়োজনীয় পঁচনশীল পন্যের ট্রাকগুলোকে ফেরি পারাপার করতে দেয়া হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিমুলিয়া ঘাট ও এর আশপাশ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন করোনার ক্রান্তিকালে ঈদের বন্ধের কারনে মানুষ এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেন না যায়। দক্ষিন বঙ্গের ২৩ জেলার মানুষ এ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। ঈদের সময় ঘুরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভিড় থাকে। গত কয়েকদিন এই ঘাটে যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড় ছিলো। জেলা পুলিশ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন এবং বাসের ব্যবস্থা করে ঘাট এলাকায় আসা যাত্রীদের ঢাকায়সহ বিভিন্ন গন্তেব্যে ফেরত পাঠানো হয়। এখন ঘাট এলাকায় কিছু কাভার্ডভ্যান ও পন্যবাহী ট্রাক রয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে শুধুমাত্র লাশবাহী গাড়ীগুলোকে চলতে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খেয়ে পড়ে বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন সেটা হলো নিত্যপন্য। সেই নিত্য পন্য বহনকারী গাড়ীগুলোকে আমরা চলতে দিচ্ছি। যে সমস্ত মানুষ ঘাটে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আমি তাদেরকে বলবো। আপনাদের আবেগকে আমরা শ্রদ্ধা করি। করোনার এই মহামারি ভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘাট এলাকায় এসে গনজমায়েত না করার জন্য যাত্রীদের কিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.