হাইওয়ে থানায় অটোরিকশা বাণিজ্য!

সরকারি আদেশে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার চলাচল। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীতে প্রশাসনের টনক নড়লেও এ সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক ধরপাকড় নিয়েই পেট ভরছে হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের। অভিযোগ উঠেছে, মহাসড়কে চলাচল নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। গত এক মাসে হাইওয়ে পুলিশের হাসাড়া থানা পুলিশের পকেটে গেছে লাখ লাখ টাকা। করোনার কারণে মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এসব অটোরিবকশা ইজিবাইকে করে লোকজন মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এসব অটোবাইক আটকিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা নিচ্ছে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।

হাসাড়া হাইওয়ে থানা এখন গরীব অসহায় ড্রাইভারদেরে গাড়ি আটকিয়ে রমরমা জমজমাট বানিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। সকল ড্রাইভার জানেন, গাড়ি আটকালে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হবে আর হারাতে হবে একটি ব্যাটারি। একটি ব্যাটারির আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা। প্রতিদিনই এখানে ২ থেকে ৩টা গাড়ি আটকিয়ে বানিজ্যের ঘটনা ঘটেই চলছে।

গত ১৫ মে শুক্রবার ইজিবাইক ড্রাইভার আল আমিনের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ও একটি ব্যাটারি নিয়ে ইজিবাইক ছেড়ে দেয় এস.আই রফিকুল ইসলাম। ২৫ মার্চ ইজিবাইক আটকানোর সময় বুকে লাথি মারেন এবং হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পেটান। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল তাকে ডেকে নিয়ে থানার একটি রুমে নিয়ে বেধম প্রহার করেন। সেই প্রহারের আজ অবদি সে অসুস্থ রয়েছেন। ডাক্তার দেখিয়েছেন। বাসায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। তিনি এমনটি জানিয়েছেন গত রবিবার দুপুরে।

তিনি জানান, তিনি ইজিবাইক চালান আব্দুল্লাহপুর রোড হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে। আব্দুল্লাহপুর থেকে এস.আই রফিকের সাথে ডিউটিতে থাকা কনস্টেবল আল আমিনকে ছলোনা করে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে আসে। আল আমিন হাইওয়ে রোডে উঠতে নারাজ ছিল। তখন ইজিবাইকে থাকা কনস্টেবল বলেন আমি পুলিশের লোক কেউ গাড়ি আটকাবে না। কিন্তু ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে যাওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আল আমিনের ইজিবাইকটি আটকিয়ে দেয় এস.আই রফিক। পরবর্তীতে গাড়ি নিয়ে থানায় আটকে দেয়।

তিনি আরো জনান, গাড়ি উদ্ধারে কোন উপায় না পেয়ে কয়েক দফা ৯৯৯ এ ফোন করি। তারাও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। সেই সূত্র ধরে এস. আই রফিক আমাকে গত ১ মে ফোন করে থানায় যাওয়ার জন্য বলে। ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ায় তারা অনেক চাপে আছে তাই গাড়ি ছেড়ে দিবে বলে তাকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে আল আমিন একাই থানায় যায়। কিন্তু থানায় যাওয়ার সাথে সাথে রফিক থানার একটি কক্ষে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে গাড়ি না দিয়ে শাসিয়ে ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে ১৫ মে শুক্রবার এস আই রফিক আবার ফোন করে বলে টাকা দিলে গাড়ি দেওয়া হবে বলে জানান। আল আমিন এস আই রফিককে ৬ হাজার এবং আরো তিনজনতে ১ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনে। তবে গাড়িতে ১ টি ব্যাটারি ছিল না। এস.আই রফিকের কাছে ব্যাটারির বিষয় জানতে চাইলে সে আল আমিনকে বলেন, গাড়ি পাহারা দিয়েছি ব্যাটারি পাহারা দেইনি। ব্যাটারীর বিষয় আমরা কিছু জানি না।

এমনই আর একজন ভূক্তভোগী ইজিবাইক ড্রাইভার খালেক। তিনি জানান, তার কাছ থেকেও ইজিবাইক আটকিয়ে ৬ হাজার ২০০ টাকা নিয়েছে এস.আই তোফাজ্জ্বল। ১২ মে রাত সাড়ে ৯টার সময় তার কাছ থেকে ৬২০০ টাকা নেওয়া হয় এবং কিন্তু একই পদ্ধতি একটি ব্যাটারি গায়েব হয়ে যায়। খালেক জানান, আমার গাড়ি আটকায় ২৭ এপ্রিল সকাল ১১টায়। প্রতিদিনই আমি গাড়ি গিয়ে দেখে আসতাম এবং ব্যাটারি চেক করতাম। ১৫ দিনের মাথায় গাড়ি আনতে গেলে টাকাও দিলাম আর গাড়ির ব্যাটারিও হারালাম।

এমন আরো একজন ভূক্তভোগী ইজিবাইক ড্রাইভার মিন্টু তালুকদার। মিন্টু তালুকদার জানায় তার কাছ থেকে গত ১৪ মে সন্ধ্যা ৬টার সময় ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে তার গাড়ির ব্যাটারির কোন ক্ষতি হয়নি। তার গাড়ি আটকিয়েও টাকা নেয় হাসাড়া হাইওয়ে থানার এস.আই তোফাজ্জল। তিনি আরো জানান, আমাদের মালিরঅংক এলাকার রনি নামের এক ড্রাইভারের গাড়ি আটকিয়ে রেখেছে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকাও নিয়েছে কিন্তু তার গাড়ি এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়নি।

ড্রাইভার রনির সাথেও কথা হয় মিন্টু ড্রাইভারের সেলফোনে তিনি বলেন, ৬ মে তার গাড়ি আটকায় ৭ মে তার কাছ থেকে মোটামত মামুন নামের এক পুলিশ তার কাছ থেকে ৬০০০ টাকা নেয়। এখন পর্যন্ত তার গাড়িটি পায়নি।

অভিযোগ উঠেছে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল বাসেত এখানে আসার পর হতে এ অটো/ইজিবাইক আটকানোর যেন ব্যবসা বানিজ্যে রূপান্তিত হয়েছে। তার নির্দেশই নাকী সব কিছু হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল বাসেত এর কাছে জানতে চাইলে, আমার নলেজে নাই বলে ফোন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জোনের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আহমেদ খান-এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ম্যাসেজে কালের কণ্ঠকে জানান, বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.