সিরাজদিখানে মধ্যরাতে যুবককে কুপিয়ে যখম, আটক-১

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে মধ্য রাতে সোলাইমান সরদার রনি (৩২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পূর্ব রাজদিয়া গ্রামে ওই যুবকের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত তাহসিন নামে ১৪ বছরের কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পরদিন শুক্রবার সকালে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। সে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামের মো. জিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোলাইমান সরদার রনি পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত মো. ফারুক সরদারের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী রনিকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীও ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রনি বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ী ফিরে পশ্চিম ভিটির চৌচালা ঘরে ঘুমিয়ে থাকে। ওইদিন রাত অনুমান দেড়টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে ঘরে সামনে তিনজন লোককে দেখে কে এখানে বলার সাথে সাথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে উক্ত কোপ রনির বুকে ও মুখে লেগে মারাত্নক রক্তাক্ত জখম হয়। ওই সময় রনি তাদের একজনকে জাপটে ধরে ডাক-চিৎকার দিলে রনির ছোট ভাই ঘর থেকে বেরিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি অবগত করা হলে আটক ওই কিশোরকে তার জিম্মায় রেখে পরদিন সকালে পুলিশে সোপর্দ করেন। এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় রনির বিপক্ষে অনেক লোক আছে। যারা রনির ভালো চায়না।এর আগে বে-আইনি ভাবে জমিজমা দখলের প্রতিবাদ করাসহ এলাকার প্রভাবশালীদের বিভিন্ন অপকর্মে বাধা দিয়েছে সে। এ কারণে হয়ত বা কেউ তার ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে।

ভুক্তভোগী সোলাইমান সরদার রনির ছোট ভাই মো. জনি বলেন, রাত দেড়টার দিকে চিৎকারে শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আমার ভাইয়ের শরীরে রক্তমাখা এবং সে একজনকে ধরে রেখেছে। পরে মেম্বারকে ঘটনার বিষয় জানাই। আমার ভাইকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ যদি তারা চোর হতো তাহলে বাড়ীর লোকজন দেখে পালিয়ে যেতো। কিন্তু তারা আমার ভাইকে মারা জন্য বাড়ী পর্যন্ত এসে ওৎ পেতে থাকে। যখন আমার ভাই ঘর থেকে বের হয়েছে তখনি আমার ভাইয়কে মারা জন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তিনজনের মধ্যে একজন সিরাজদিখানের লোক ছিলো। যে লোকটি বাকী দুইজনকে আমাদের বাড়ী চিনিয়ে দিয়েছে। যে ছেলেটিকে আটকে রেখে পুলিশে দেয়া হয়েছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের হবে। আমরা অপরাধীদের বিচার চাই।

স্থানীয় যুবক নাজমুল হাসান সিফাত বলেন, রাতে চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি রনি ভাইকে কে যেন কোপ মেরে রক্তাক্ত করেছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এর বেশী আমি দেখি নাই।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১জন আসামি ধরা হয়েছে আর বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

সময় বাংলার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.