মুন্সীগঞ্জ ডিসির করোনা জয়

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার করোনা জয় করেছেন। শুক্রবার তার সর্বশেষ ফলোআপ রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে। গত ৩ জুন তাঁর ফলোআপের এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগেও তার ফালোপের আরেকটি পরীক্ষায় করোনা নেগটিভ আসে। পরপর দু’টি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসায় তিনি এখন করোনা জয়ী।

সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে জানান, জেলা প্রশাসকের সর্বশেষ ফলোআপও নেগেটিভ। ‘নিপসম’ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লেখ করে সিভিল সার্জন জানান, শনিবার তাঁর রিপোর্টের কাগজটি হাতে পৌছবে এরপরই অফিসিয়ালি করোনা জয়ী ঘোষণা করা হবে। এদিকে জেলা প্রশাসকের করোনা জয়ের খবরে কালেক্টরেটের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের (৪৫) করোনা শনাক্ত হয় গত ১৭ মে। এর পর থেকেই তিনি কালেক্টরেট সংলগ্ন সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে আছেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ দিন ধরে তিনি আইসোলেশনে আছেন। আইসোলেশনে থাকা অবস্থায়ই তিনি অনলাইনে এবং ফোনে প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। জেলা প্রশাসকের এই সুস্থতায় মুন্সীগঞ্জে করোনা মোকাবেলা কাজে আরও গতি আসবে।

এদিকে করোনা জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পুরো জেলাবাসীর তথা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে সকলের দোয়ায় করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছেন উল্লেখ করে আবার কাছ থেকে জেলাবাসীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ১৪ মে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিপসম পাঠানো হয়েছিল। এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খান মো. নাজমুস সোয়েবের করোনা পজেটিভ আসে। তাঁর সাথে মিটিং করার কারণেই জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাসহ ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ১৭ মে জেলা প্রশাসক ছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম শফিকের (৪২) করোনা শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খান মো. নাজমুস সোয়েব করোনা জয় করেছেন। শুক্রবার সিভিল সার্জন অফিস এডিএমকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করে।

জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার শুরু থেকে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছিলেন। সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাহসী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া কর্মহীন দরিদ্র মানুষের কাছে যথাযথভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বেদে সম্প্রদায়সহ তৃণমূল মানুষকে মানবিক সহায়তা পৌছাতে সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায়ও যান। ঝুঁকি সত্ত্বেও জেলাবাসীর স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.