শ্রীনগরে নব নির্মিত ব্রীজের কাজে অনিয়ম তদন্তে ইউ এন ওর অভিযান

খবর প্রকাশের পর
শ্রীনগরে প্রায় আড়ই কোটি টাকায় নবনির্মিত ব্রীজের কাজে অনিয়মের অভিযোগ শীর্ষক শিরোনামের সংবাদটি গত ২৯ জুন গ্রাম নগর বার্তা সহ বেশকিছু অনলাইন পোর্টালও দৈনিক মুন্সীগন্জের খবর পত্রিকায় ছাপা হয়। খবর প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে এর সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নামেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা রহিমা আক্তার। সরজমিনে তদন্ত করে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদেরকে অভিনন্দ জানান । তিনি বলেন , ব্রীজ নির্মানে যেসব অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে, তার প্রতিবেদন জরুরী ভিত্তিতে তৈরী করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রাজিউল্লাহ বলেন , ইউ এন ও স্যার সহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম । তদন্ত করে ঠিকাদারকে শোকচ নোটিশ করা হয়েছে। এবং উর্ধধতন কর্মকর্তাদেরকেও জানানো হয়ছে । উল্যেখ্য যে, শ্রীনগর সদর বাজার পোস্ট অফিস সংলগ্ন পশ্চিম দিকের খালের উপর নবনির্মিত এ ব্রীজটি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কাজ শুরুর কথা থাাকলেও মামলাজনিত কারণে কাজটি স্থগিত হয়ে যায়। সুচতুর ঠিকাদার কাজটি হাতছাড়া না করতে পারেননি শ্রীনগর উপজেলা বি এন পির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম কাননকে সত্যাধিকারী বানিয়ে ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের নাম দেন মেসাার্স খাজা চিশতিয়া এন্টারপ্রাইজ। এরপর ফের চালু হয় পুরোনো জিনিষ নতুন মোড়কে । লাইসেন্স বড় ভাইয়ের নামে হলেও কাজ কর্ম করেন মিজান নিজেই।

তবে লাইসেন্স পাল্টালেও কাজকর্মের ক্ষেত্রে তার স্বভাব যে পাল্টায়নি এমন অভিযোগ রয়েছে অনেকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ঠিকাদার বলেন, অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়া এবারও মিজান প্রমান করলো চোরে না শুনে ধর্মের কথা।

এবারের কাজটি ছিল আই, আর আই, বি, টি – ২ এর অর্থায়নে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৭২৮ টাকায় । সংশোধিত প্রক্কলিতমূল্যে কার্যাদেশ পেয়েছিলো, এই মেসার্স খাজা চিশতিয়া এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শ্রীনগর সদর বাজার মতন পোস্ট অফিসের পশ্চিম দিকে খালের উপর তিন স্প্যান বিশিষ্ট ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭.৩ মিটার প্রস্থ এ গার্ডার ব্রীজটির কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২০১৭ সালের ১ জুলাই বর্তমানে ব্রীজটির অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও , ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি হচ্ছে, যে ঠিকাদার এপ্রোচ নির্মানের মত ছোট খাট কাজে অধিক মুনাফার আশায় দূর্নীতির আশ্রয় নিতে পারে, সে এতবড় ব্রীজ নির্মানে তাহলে কি করেছে ? অনেকের প্রশ্ন সিডিউল অনুযায়ী কি ব্রীজটি করা হয়েছে ? না-কি সেখানেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি ? তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মহলের উর্ধতনদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম কাননের ছোট ভাই মিজানুর রহমান এই কাজের ঠিকাদার। এর আগে তিনি ব্রিজের কাজকে পুজি করে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করলে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা তা উচ্ছেদ করে দেয়।

২৮ জুন বেলা ১২ টায় সরজমিনেে গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজের উত্তর পাদদেশে ২০ মিটার এপ্রোচ সড়কের ফ্ল্যাট সোলিং এর কাজ হচ্ছে পূরাতন নিম্নমানের পঁচা ইট দিয়ে। এ বিষয়ে মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, পরে কথা হবে।

ব্রিজের কাজের তদারককারী কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মমিন জানান, কোন অনিয়ম থাকলে আমার অগোচরে হয়েছে । তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেছিলেন , আমি কি ঠিকাদারের সাথে বসে থাকবো নাকি ?

শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী রাজিউল্লাহ বলেছিলেন, ঠিকাদার কোন অনিয়ম দূর্নিতী করে থাকলে প্রয়োজন হলে ঐ সমস্ত নিম্নমানের ইট উঠিয়ে ফেলতে বলবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, আমরা চাই টেকসই উন্নয়ন। সরকারের উন্নয়ন কজে কোন অনিয়ম দূর্নীতি সহ্য করা হবেনা। সে যেই হোকনা কেন অবশ্যই তাকে আইনের আওতয় এনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদটি ২৯ জুন দৈনিক মুন্সীগন্জের খবর পত্রিকা ও বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা রহিমা আক্তার তাৎক্ষনি সরজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী রাজিউল ইসলামকে।

গ্রাম নগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.