শিক্ষায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সারাবিশ্ব এখন স্থবির। স্বাভাবিক নেই মানুষের জীবনযাত্রা। তিন মাসেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ আছে দেশের স্কুল-কলেজগুলো। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে হতাশা। প্রিয় বিদ্যাপীঠগুলো বন্ধ থাকায় তারাও ফিরতে পারছে না স্বাভাবিক ছন্দে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এ বছরের শিক্ষাসূচিতে। অনলাইন স্কুলে অন্যান্য জেলা এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে ছিল মুন্সীগঞ্জ জেলা। জেলার ঐতিহ্যবাহী এভিজেএম স্কুল ও প্রফেসর ইয়াজউদ্দীন স্কুল এন্ড কলেজ অনলাইন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এলেও অন্যদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়নি, যা হতাশাজনক। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ তৈরি করলো জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এ্যাপস ভিত্তিক শিক্ষণ কার্যক্রম ধ্রুবমিট এ্যাপস। এই এ্যাপসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে শিক্ষকদের ক্লাসগুলো করতে পারবে। শিক্ষকদের এই এ্যাপস ব্যবহারে জেলার ২৬ জন শিক্ষককে মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সামিউল মাসুদের উপস্থিতিতে এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় জেলার ছয় উপজেলার ২৬ জন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন, যা পর্যায়ক্রমে সকল জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও জেলা শিক্ষা অফিসার নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং করছেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার জনপ্রিয় ও বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট শিক্ষকদের নিয়ে এই এ্যাপসের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই এ্যাপসে ভিডিও ক্লাস সহ, পাওয়ার পয়েন্ট ভিত্তিক শিখন কার্যক্রম ও ছবি শেয়ার এবং ক্লাস রেকর্ড করার সুবিধা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে জেলার অভিভাবক, সুশীল সমাজ সহ শিক্ষার্থীরা সাধুবাদ জানিয়েছে। প্রশংসায় ভাসছে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার।

অভিভাবকদের মতে, জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসনের অধিক মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। শহরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলগুলো এবং গাইড বাণিজ্য সহ বিদ্যমান সমস্যা নিরসনেও জোড়ালো ভূমিকার আহ্বান জানান অভিভাবকরা।

শহরের কিছু বাণিজ্যিক ও গাইডবাজ শিক্ষক তাদের দূর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনলাইন ভিত্তিক শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কৌশলে নিরুৎসাহিত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিলে অনলাইন ভিত্তিক শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এভিজেএম’র প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মনোরঞ্জন ধর, রাসেল ও দীপক এদের ক্লাসের মানও অনেক ভালো। আগামীতে অন্যান্য শিক্ষকদেরকেও অনলাইন ক্লাসে ইনভলভ করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সামিউল মাসুদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। ধ্রুবমিট এ্যাপসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায় ক্লাস শুরু করা হয়েছে। ধ্রুবমিট ফেল করলে গুগল মিটের মাধ্যমে ক্লাস চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি ৬১০টি বেসরকারি ৩৫৫টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা ৫২টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি ৩টি, বেসরকারি ১৯৭টি, কলেজ সরকারি ৪টি বেসরকারি ২১টি, কারিগরি সরকারি ২টি বেসরকারি ১২টি, মাদ্রাসা বেসরকারি ৩৬টি সর্বমোট ১২১২টি বিদ্যালয় রয়েছে মুন্সীগঞ্জে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.