সাঁঝের আকাশ – জসীম উদ্দীন দেওয়ান

অভাবের আগুনে রাতারাতি জ্বলছে, কতো শত পরিবার।
রক্ত চোখ আর কঠিন থাবায়, বেহিসেবি করোনার। নির্মমতার সীমাহান প্রান্তর, অবরুদ্ধতার গ্লানি।
রুটি রোজগারের পথ হারা হয়ে, নীরবে বহে কষ্টের বানী।
মধ্য বিত্তের চিত্ত খানে, বুকের ব্যথায় জ্বলে।
অনাহারে থাকলে তারা, মুখ ফুটে কবে বলে।
এ কেমন আঁধার, আসলো নেমে, অমানিশার ঘোর তোলে?
গগন হতে জোনাক সরে, আলোর হাহাকার ফেলে।
মুক্ত বিহঙ্গের উড়তে মানা, শিকল বাধা পায়।
সুখের ঘরে অভাবের ঢেউ, উত্তাল দরিয়ায়।
সন্তানের মুখ মলিন ছিলোনা, হাসিমাখা বদনখানায়।
হাসি রাশি সব দূরে ঠেলে দিলো, নিঠুর করোনায়।
চাকুরী হারানো বাবার পকেট, শূণ্যতার হাওয়ায় ভাসে।
সংসার জুড়ে বেদনার নীল, অমাবস্যা হয়ে আসে।
দুই মাস গেলো, তিন মাস এলো, অফিস যদি খোলে।
সেই আশায় স্বপ্ন ভাসায়, বেঁচে থাকার স্বপ্ন দোলে।
নিজের খাবার কোন রকমে হলে, দিবস চলে যায়।
বাড়ন্ত শিশু অভ্যাসে যাহা, সে সব পুষ্টি চায়।
বয়োস্ক বাবা-মার পথ্য হয়না, কষ্টে ফাটে বুক।
অভিশাপ মুক্ত ধরনী কবে, বয়ে আনবে প্রিয় সুখ।
দক্ষিণা বাতায়ন সমীরন দিতো, বিকেলের আকাশে পাখি।
সে সব আজ মিছে হয়ে গেলো, চুপি চুপি দিয়ে ফাঁকি।
বুলবুলিরা গাছের ডালায়, আসতো চড়ুই পাখি।
নিত্য বিকেল খাবার রাখতাম, দুদিন নাহী রাখি।
জানালা খোলে ওদের খোঁজে, শান্তনা দিতে চাই।
আমার মলিন মুখটি দেখতে, ওরা যেন নাই।
সাঁঝের আকাশ ঘনিয়ে আসে, আশা ছাড়িনা।
ধরা হতে যাবে সরে, নিঠুর করোনা।
(অসমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.