গজারিয়ায় শ্রমিক লীগ নেতা হত্যা মামলা: মায়ের সঙ্গে পিতৃ হত্যার বিচার চাইলো দুই শিশু সন্তানও

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ১৩ বছরের আফরিন জাহান ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র ৯ বছরের আরাফাত মোল্লা নামের দুই শিশু শিক্ষার্থী পিতৃ হত্যার বিচার চাইলেন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার রসুলপুর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে ফুলদী নদী ও মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে পরিবারে স্বজন ও মা রুমা বেগমের সঙ্গে বোন আফরিন ও ভাই আরাফাত রোববার মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসেছিলেন পিতা ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ নেতা বি এম আলম হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে।

শ্রমিক লীগ নেতা বি এম আলমের একমাত্র মেয়ে ও ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী আফরিন জাহানের কাছে জানতে চাইলে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জন্ম হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছর বঞ্চিত থাকা আমরা দুই ভাইবোন আগে বুঝিনি বাবার আদর-ভালোবাসায় সন্তানরা কতোটা আনন্দিত হয়। দীর্ঘ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত দুই বছর আগে তার পিতা বি এম আলম বাড়ীতে ফিরে আসায় বাবার আদর-যতেœ আনন্দেই দিন কাটাছিলে তাদের। ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আফরিন জাহান আরও বলেন, গত ৫ মার্চ একদল সন্ত্রাসী তার বাবার উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরদিন সে হাসপাতালে মারা যায়। এরপর থেকেই অজানা এক আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।

বড় বোন আফরিনা জাহান এ কথাগুলো বলার সময় তার ৯ বছরের শিশু আরাফাত মোল্লা মা রুমা বেগমের সঙ্গে বসে নির্বাক নয়নে চারদিকে তাকিয়ে দেখছিল।

রোববার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম বলেন, তার স্বামী হত্যার মূল হোতা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো মজিবুর রহমানসহ ৬ আসামীকে রহস্যজনক কারনে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এ সুযোগে আসামীরা মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টিসহ প্রাননাশেরও হুমকি দিচ্ছে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ নেতা বিএম আলমের বিধরা স্ত্রী রুমা বেগম বলেন, এজাহারভূক্ত ৬ আসামীকে গ্রেফতার না করে উল্টো মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখিয়ে আসামীদের সঙ্গে আপোষ করতে বলছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাই তিনি আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে তিনিসহ তার দু’টি শিশু সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে খালা হোসনে আরা, স্বজন মনোয়ারা বেগম, কুলসুম বেগম বলেন, আসামী গ্রেফতারের পরিবর্তে আপোষ করতে চাপ দেওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে পরিবার ও গ্রামবাসী। আর আপোষ করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৬ মে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে আসামীরা নিহত বি এম আলমের ভাই ও স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলায় করায় তারা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে এলাকাছাড়া হয়ে পড়েছে। এ সুযোগে আসামীদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে তদন্ত কর্মকর্তা সঠিক ভাবে তদন্ত করছে না।

গ্রাম নগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.