রাতের রাজার বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা নিল শ্রীনগর থানা পুলিশ

আরিফ হোসেনঃ রাতের অন্ধকার নেমে আসার সাথে সাথে শুরু হয় তার অপরাধ ও পৈশাচিক কর্মকান্ড। রাতভর আদান প্রদান করে মাদক ব্যবসার চালান। আড়িয়ল বিলে মাছ ডাকাতির সাথেও জড়িত রয়েছে তার নাম। সারা রাত ঘুরে বেড়ানো তার নেশা। রাত বিরাতে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ওই এলাকার কোন নারী ঘর থেকে একা বের হলেই সুযোগ বুঝে সে হামলে পরে। কেড়ে নেয় সম্ভ্রম। রাতের আধারে একাধিক নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়ার পর লোক লজ্জার ভয়ে বেশ কয়েকজন নারী এখন এলাকা ছাড়া। এক নারী তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে ওই নারীর বসত ঘর রাতের আধারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকান্ডের জন্য বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আক্তার মোড়ল(৪২) ওই এলাকায় রাতের রাজা নামেই পরিচিত। রাতের রাজা আক্তার মোড়লের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সহ একাধিক মামলা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে এলাকায় অপরাধ জগতে তার অবাধ বিচরণে কোন বাঁধা নেই। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিবাদী হয়ে উঠে যে কেউ। তেমনি রাতের রাজা আক্তার মোড়লের কছে একাধিকবার সম্ভ্রম হারানোর পর ওই এলাকার দরিদ্র এক গৃহবধু গত ৪ জুলাই শ্রীনগর থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রায় এক মাস পর ২৭ জুলাই সোমবার আক্তার মোড়লের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা গ্রহণ করে।

তবে অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই হাফিজ জানান, ওই গৃহবধু প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেননি। সে ফুঁসলানো ও মারামারির অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তে গেলে সে জানায় তাকে আাক্তার মোড়ল একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানায়, তাদের এলাকার মৃত জব্বার মাদবরের ছেলে আক্তার মোড়ল (৪২) আক্তার প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। কিন্তু পূর্বে থেকে তার বিরুদ্ধে জানা থাকায় ওই গৃহবধু তাকে এড়িয়ে চলে। জুন মাসের মাঝা মাঝি কোন এক রাতে ওই গৃহবধু প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ে ঘর থেকে বের হলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আক্তার মোড়ল তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা প্রচার করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই রাতে ওই নারী ধর্ষিত হলে সে উপায় না দেখে বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়। পরে পরিবারের পরামর্শে সে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ যাওয়ার কারনে আক্তার মোড়ল ওই গৃহবধূর বাড়ি-ঘরে হামলা চালায় এবং মামলা করলে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকী দেয়।

ওই এলাকার ৬০ বছরের এক বৃদ্ধা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, প্রায় ১ বছর পূর্বে সন্ত্রাসী আক্তার তার প্রবাসী ছেলের বউকে নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে আক্তার তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আক্তারের ভয়ে ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ তার নাতনীকে নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকছেন। এছারাও আক্তারের হাত থেকে তার আপন শ্যালিকাও রক্ষা পায়নি। সন্ত্রাসী আক্তার মোড়ল যখন তখন অস্ত্র বের করে ভয় দেখায় বলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে।

এব্যপারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.