মুক্তারপুরের বেড়ি বাঁধটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুরের বেড়ি বাঁধটি ধলেশ্বরী নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। মুক্তারপুরের বেড়ি বাঁধটিতে নিম্নমানের কাজ করার ফলে এ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনে বাঁধের ব্লক ইতোমধ্যে ধলেশ্বরী নদীতে ডুবে যাচ্চে।

আর সেই ভাঙ্গা বাঁধে বাঁশের কঞ্চি ও বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধের পাশে রাস্তা রক্ষার শেষ চেষ্টা চলছে। বাঁধের রাস্তাটি অনেকটাই সরু। আর সেই রাস্তা দিয়ে দিনভর ভারি যানবাহন চলাচল করছে। বাঁধের রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করার কারণেই বাঁধের রাস্তার বিভিন্ন স্থান ডেবে গেছে ইতোমধ্যে।

আর ডেবে যাওয়া স্থানে কোন কাজ না করার কারণে পরিবর্তিতে সেখানকার বেড়ি বাঁধের ব্লক ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে পূর্বের স্থান থেকে। এরপর বাঁধে বড় ধরণের ফাটল দেখা দিতে থাকে। প্রথম দিকে কর্তৃপক্ষ এখানে বিশেষ নজর দিলে এমনটা নাও হতে পারতো বলে অনেকেই মনে করছেন।

বেড়ি বাঁধের এ রাস্তাটি এ সড়ক পথের জন্য অনেকটাই গুরুত্ব পূর্ণ। কারণে হচ্ছে যে, মুক্তারপুর ফেরিঘাট থেকে উত্তর-দক্ষিণের এ রাস্তা দিয়ে খুব সহজে অল্প ভাড়ায় ও অল্প সময়ে মিরকাদিম পৌরসভায় যাতায়াত করা যায় শর্টকাটে। এ পথে এ রাস্তাটি না থাকলে ঘুর পথ হয়ে ঘুরে ঘুরে তবেই মিরকাদিম যেতে হতো এ পথের চলাচলকারীদের।

তাতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগতো বলে এ পথের পথচারিরা জানিয়েছে। এছাড়া আরেকটি কারণে এ রাস্তার গুরুত্ব রয়েছে সব মহলে। সেটি হচ্ছে এ রাস্তার উপর দিয়ে মুক্তারপুর সেতু নির্মিত হয়েছে। এ কারণেই রাস্তার রক্ষণা বেক্ষণার সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ঠ মহলের। সেতু নির্মাণের অনেক আগে থেকেই এ রাস্তাটি জনসাধারণ ব্যবহার করে আসছে।

মুক্তারপুর ফেরিঘাট থেকে উত্তর-দক্ষিণের ফিরিঙ্গিবাজারের মসজিদঘাট পর্যন্ত ধলেশ্বরী কুল ঘেষে এ বেড়ি বাঁধটি নির্মিত হয় তৎকালিন সময়। আগে এ পথে রিকাবিবাজারে যেতে মানুষ একেক জনের বাড়ি আঙ্গিনার ভেতর ও উঠনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতো।

নব্বইয়ের দশকে ধলেশ্বরী নদীর পারকে কেন্দ্র করে এখানে এ পথে পায়ে হাটা পথ প্রথমে তৈরি হয়। পরে এ রাস্তার কিছুটা উন্নতি হলে এখন পাশাপাশি দুটি রিক্সা চলাচল উপযোগি হিসেবে এ পথে লোকজন চলাচল শুরু করে। তবে কোন কোন স্থানে রাস্তার সরুতার কারণে একটি রিক্সা চলাচলে অন্যদিকে আরেকটি রিক্স্রা অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

রাস্তার সরুতার কারণে এ পথে দ্রুতার সাথে কোন প্রশাসনিক যানবাহন চলাচল করতে এখনো পারছে না। এদিকে এই সরু রাস্তাকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরে এখানে বিভিন্ন পাইকারি চাউলের আড়ৎ ও একাধিক অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে। এ কারণে এ পথে বর্তমানে ভারি যানবাহন চলাচল করছে।

তাতে এ পথটি ব্যস্ততম পথ হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। এসব পরিহনের চলাচলের সময় এখানে বিপরিত মুখ থেকে কোন পরিবহন আসলে সরু রাস্তার কারণে এখানে নিত্যদিন যানজট লেগেই থাকে। তাই এ পথে চলাচল কারীদের দাবি হচ্ছে এ পথটি যেন প্রশস্ত করণ করা হয়।

অন্যদিকে ধলেশ্বরী নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পূর্বের ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ি বাঁধের আশপাশে পানি প্রবেশ করায় বেড়ি বাঁধের বিভিন্ন নদীতে ভেঙ্গে পড়ে। আর সেখানে এখন জোরা তালিয়ে দিয়ে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। আর সাথে সাথে রাস্তার বেড়িক্যাট হিসেবে বাঁশের কঞ্চি দেয়া হচ্ছে।

তবে বন্যার পানি যদি কোনভাবে এ রাস্তা ডুবে যায়। তবে বেড়ি বাঁধের বেশিরভাগ অংশই নদীতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকই মনে করছেন।

এদিকে এ নদী দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বড় বড় লঞ্চ চলাচল করে থাকে। তার ঢেউ নদীর পার ভেঙ্গে যায় বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। গত বছর এ পথের মালিপাথর এলাকায় বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি লোকালয়ে চলে গিয়ে ছিলো বলে সেই গ্রামের লোকজন জানিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.