মুন্সীগঞ্জে স্পিড ব্রেকার এখন মরণ ফাঁদ, ঘটছে হতাহতের ঘটনা

রিয়াদ হোসাইন: মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন সড়কে কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করায় ওই সড়ক মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য স্পীড ব্রেকার। যার কারণে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। স্পিড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতীকী চিহ্ন, লেখা নেই কোন সতর্কবাণী। এমনকি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি ওই স্পিড ব্রেকারগুলো।

সোমবার (১০ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা গেছে, মুক্তারপুর-সিপাহীপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের প্রায় ১৬ কিলোমিটার পথে ১৫টিরও বেশি গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার রয়েছে। শুধুমাত্র দিঘীরপাড় থেকে দরজারপাড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে ৯টি স্পিড ব্রেকার রয়েছে।

একই অবস্থা মুন্সীগঞ্জ শহরের সড়কগুলোতে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্রা অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার রয়েছে। কিছু কিছু স্পিড ব্রেকার এতো উঁচু যে, এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই ড্রাইভারদের সাথে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রাস্তায় যাতায়াতকারী রোগী ও শিশুরা ঝাঁকুনিতে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সড়কের পাশে কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করলে সেখানে দেয়া হয় একটি স্পিড ব্রেকার। আর হাট-বাজার, দোকান থেকে শুরু করে চা দোকানের সামনে অবাধে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও বৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

জুবায়ের হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, উঁচু স্পিড ব্রেকারগুলোতে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠার চেষ্টা করলে গাড়ি স্পিড ব্রেকারের ওপর উঠতে চায়না। তাই বাধ্য হয়ে জোরে চালিয়ে উঠতে হয়ে। মাঝেমধ্যে ওই স্পিড ব্রেকারগুলোতে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

সিপাহীপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের গাড়ি চালকরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্পিড ব্রেকারগুলোর কারণে সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অতি দ্রুত এসব অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার অপসারণের দাবী জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু স্পিড ব্রেকার নয় পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ লাইন রাস্তার উপর দিয়ে নেওয়াকে দায়ী করেন তারা। এসব অবৈধ পাইপ লাইন ও স্পিড বেকার যথাসম্ভব অপসারণ করে সড়ককে নিরাপদ করা হোক। সড়কে যত স্পিড ব্রেকার ততই দুর্ঘটনার পাশাপাশি ভোগান্তি রয়েছে জনসাধারণের বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান বলেন, স্পিড ব্রেকার নিয়ে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলেও মাঠ পর্যায় আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারি না। এ স্পিড ব্রেকার ও অবৈধ পাইপ লাইন অপসারণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্মাণকৃত সড়কগুলোতে কোনো ধরনের স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করার নিয়ম নেই। স্পিড ব্রেকারগুলো উল্টো সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকে। কিন্তু স্থানীয় অসচেতন মানুষ বিভিন্ন মহলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দিয়ে তদবির করার কারণে আমরা বাধ্য হই স্পিড ব্রেকার নির্মাণে। এছাড়া তিনি আরো বলে, সিপাহীপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। স্পিড ব্রেকার গুলো রং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.