সিরাজদীখানের গাঙ্গুলী বাড়ি দখলের পাঁয়তারা

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সুদর্শন গাঙ্গুলীর বাড়ি দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টায় এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিকারের জন্য সাংবাদ সম্মেলন করেও পড়েছে বিপাকে গাঙ্গুলী পরিবার। গভীর রাতে ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

সরেজমিন বাবু সুদর্শন গাঙ্গুলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ৭১ সালে পাকসেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজদীখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গৌরীপুরা গ্রামের তিন তলা এই ভবনটি। পাশেই শান বাঁধানো পুকুরঘাটের কালো জল দেখলে এখনও আশপাশের প্রবীণরা আঁতকে ওঠেন।

গাঙ্গুলী পরিবারের সেই ৮১ শতাংশ বাড়িটি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কোলা ইউনিয়নের থৈরগাঁও গ্রামের মৃত মরণ মাঝির ছেলে সোবহান মাঝি (৬০) ও তার মেয়ে জামাই দক্ষিণ নন্দনকোনা গ্রামের সাইদুল ইসলামের (৪৫) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী শীলদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০১৭ সালে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একই ইউনিয়নের থৈরগাঁও গ্রামের মৃত মরণ মাঝির ছেলে সোবহান মাঝি (৬০) ও তার মেয়ের জামাই সাইদুল ইসলাম (৪৫) ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিকভাবে মেয়ের জামাইয়ের নামে আম-মোক্তারনামা দলিল করিয়ে সুকৌশলে সোনিয়া বেগম ও সাদিয়া পারভীন শ্রাবণী নামে দুই ব্যক্তির কাছে সাব কবলা দলিলমূলে বিক্রি করে দিয়ে ওই সম্পত্তি হজমের সমাপ্তি ঘটায়।

পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত পেতে ভুক্তভোগী পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশের আইজি ও জাতীয় প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। গত ৯ আগস্ট নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করলে এক দিন পরই গভীর রাতে ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

বাড়ির ছোট ছেলে সুদর্শন গাঙ্গুলীর বয়স এখন ৭৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সুদর্শন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকসেনাদের নির্মমতার হাত থেকে বাঁচতে মাইলের পর মাইল হেঁটে আমাদের এই বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিল বেশ কয়েকটি পরিবার। এই বাড়িতে আমরা আট পুরুষ ধরে বসবাস করে আসছি।

জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর চক্রবর্তী বলেন, ইতিহাসের ধারক ও বাহক হিসেবে দাঁড়িয়েছে গাঙ্গুলী দার বাড়িটি। এই বাড়িটি রক্ষার্থে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে গাঙ্গুলী দার পক্ষে আমরা কাজ করছি।’

সিরাজদীখান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. মতিন হাওলাদার বলেন, ‘যুদ্ধ চলাকালীন সুদর্শন গাঙ্গুলী তার বাবা শীতল গাঙ্গুলী ও পাশের গ্রামের অভিনেতা নারায়ণ চক্রবর্তীসহ ১১ জনকে পাকিস্তানি হানাদাররা এ বাড়ি থেকে নিয়ে যায় মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পে। এরপর এক এক করে রাতে তাদের ওপর আলাদা আলাদাভাবে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। কয়েক দিন পর ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার সাক্ষী এই বাড়িটি ভূমিদস্যুরা গিলে খেতে চাইছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যে কোনো কিছুর বিনিময়ে বাড়িটি রক্ষা করব।’

সিরাজদীখান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর সুদর্শন গাঙ্গুলী দা দলের কঠিন সময়ে কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়িটি ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, খুব শিগগির তার বাড়ি উদ্ধার করা হবে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.