ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির কারণে ঘটছে প্রাণহানি

দেশের সবচেয়ে আধুনিক মহাসড়ক ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। দ্রুতগামী গাড়ির জন্য চারলেন, ছোট গাড়ির জন্য আরো চারলেনের এ মহাসড়ক গত মার্চে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর থেকে যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায় প্রতিদিনই এ সড়কে প্রাণহানি ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার অংশে পৃথক দুর্ঘটনায় একজন নিহত সহ কমপক্ষে ৯ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহারকারী, এলাকাবাসী, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং থানা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন এক্সপ্রেসওয়ের দুই দিক থেকেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া অনেক গাড়িই এক্সপ্রেসওয়েতে চলার উপযোগী নয়। তাই এ সড়কে গাড়ির গতি নির্ধারণ করে দিতে হবে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি সরিয়ে অতিরিক্ত গতির জন্য ভিডিও মামলাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে চলমান ঢাকা-মাওয়া সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। উভয় পাশের কংক্রিটের ঢালাই, ওভারপাস, আন্ডারপাস ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ আনুষঙ্গিক কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই প্রকল্পের সার্বিক তদারকি করছে। ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিশাল এ কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে সাতটি প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে ৮ কিলোমিটার করে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর সোয়া ৬ কিলোমিটার বাদ দিলে মূল এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এবং মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এ এক্সপ্রেসওয়ের কোনো স্থানেই ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না। ফলে কোনো যানবাহনকে রাস্তায় থামতে হবে না। গতিও থাকবে অনেক বেশি। আর এ গতির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা। এরই মধ্যে সড়কটির কিছু অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে পাথরবাহী ড্রাম ট্রাক পিছন থেকে চাপা দেয় । প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী যাচ্ছিলেন এসময় পিছন থেকে একটি ড্রাম ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। বাকি দুইজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া একইদিন বেপরোয়া গতির কারণে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বল্কে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচরে যায়। এ ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও আহত হয়েছেন ৭জন।

শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দারা জানান, এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর থেকেই প্রতিদিনই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়কের হাষাড়া হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য জানান, এক্সপ্রেসওয়েটি চার লেনের। সবাই আগে যাওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। তারপর রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

হাষাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবদুল বাতেন বলেন, ঢাকা-মাওয়া সড়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি। এছাড়া এই সড়কে কোনো স্পিডব্রেকার নেই। তাই যে যেভাবে ইচ্ছা বেপরোয়া চালায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুর্ঘটনা কমাতে গতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.