জাপানে নতুন সংযোজন ‘লিভ উইথ করোনা’

রাহমান মনি: জাপানে বর্তমানে প্রায়শই শুনা যাচ্ছে ‘লিভ উইথ করোনা’ বা করোনার সাথে বসবাস। অর্থাৎ জাপানিরা মনে করতে শুরু করে দিয়েছে যে, করোনা কে সাথে নিয়েই আমাদের জীবনযাপন করতে হবে।

তাই , জাপানে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানা করোনা অতি সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিন রেকর্ড গড়ছে আবার পরেরদিনই তা ভাঙছে এবং নতুন করে আবার রেকর্ড গড়ার খেলায় মেতে উঠেছে। আর জাপানিরাও তাতে অভ্যস্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে যাচ্ছে। মুখে বলছে করোনাকে নিয়ে এবং করোনার সাথেই আমাদের জীবনকে মানিয়ে নিতে হবে অর্থাৎ ‘লিভ উইথ করোনা’।

দ্বিতীয় ধাক্কায় টোকিওতে করোনায় সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার হিসেব বেড়েই চলেছে। গত ১ আগস্ট ‘২০ শনিবার টোকিওতে ৪৭২ জন করোনাতে সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে যা ইতোপূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে । একদিনে জাপান ব্যাপী সর্বোচ্চ চিহ্নিত হওয়ার সংখ্যাটিও কম নয়। ৭ আগস্ট শুক্রবার জাপান ব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৫৮৭ জন কোভিড ১৯ এ আক্রান্তে সনাক্ত হন । ৩১ জুলাই সর্বশেষ ১৯৮২ জনের রেকর্ড করা হয়।

সত্যি বলতে জাপানে দ্বিতীয় দফায় করোনা মারমুখী এবং বিধ্বংসী হয়ে ফিরে আসলেও সাধারন জাপানিদের মধ্যে তেমন কোন ভীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জীবিকা নির্বাহে । সাবধানতা শুধু মুখে মাস্ক এবং শপিং সেন্টারগুলোতে পেমেন্ট করার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য চিহ্নিত স্থান গুলোতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। আরও একটি বিষয়ে তাদের মানতে দেখা যায়। তা হলো সেনিটাইজার ব্যবহার করা।

সকালে অফিসে যাওয়াকালীন সময়ে কোন বিদেশীকে যদি জাপানের রেল ষ্টেশন গুলিতে দাঁড়া করিয়ে রাখা যায় তাহলে তিনি বুঝতেই পারবেন না যে জাপানে করোনা দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন চিহ্নই তিনি খুঁজে পাবেননা অফিসগামীদের ভীর দেখলে।

জাপানীরা মনে করেন করোনা মহামারি হলেও এটি অন্যান্য অসুখের মতো স্বাভাবিকভাবে স্থায়ী হয়ে যেতে পারে । আর দুইদিন আগে বা পরে এর ভ্যাকসিনও বের হবে। তবে কবে নাগাদ বের হবে তার নিশ্চয়তা যেহেতু নেই সেহেতু সে আশায় বসে না থেকে করোনাকে নিয়েই স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্থ হওয়াটাই সমীচীন মনে করছেন অনেকে।

তবে , জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে অবস্থিত দুটি মার্কিন নৌঘাঁটি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত সব সদস্যকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। অন্য সেনাদের মাঝে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া রোধে দ্বীপ এলাকায় নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।

৯ আগস্ট রোববার ওকিনাওয়াতে এপর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক ১৫৯ জনের করোনা আক্রান্তের ঘটনা । এনিয়ে ওকিনাওয়াতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,১১১ জনে।

জাপান সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, ‘ওকিনাওয়া দ্বীপে ঘাঁটি দুটিতে অন্তত ৬২ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩৯ জন নৌ-সৈনিক এবং অন্যরা ক্যাম্পে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছিলেন।’

ঘাঁটিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ঘাঁটিতে যাতায়াত বা সেখান থেকে কারো বের হওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত ওসাকা শহর জুড়ে।

জাপান জুড়ে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮,৯৮৯ জন , সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৩২,৩১২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,০৪৭ জন ।

আর টোকিও তে একই সময় মোট আক্রান্ত ১৫,৫৩৬ জন এবং মৃত্যু ৩৩৩ জন । ( সুত্র উইকিপিডিয়া ৯ আগস্ট ‘২০ রাত ৭,৩০ ) ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.