রেকর্ড গড়ে ইতিহাসে স্থান নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযো

জাপানের ৪৮তম জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ পেয়ে জাপানের ইতিহাসে দীর্ঘ মেয়াদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছানি দিয়েছিল শিনযো আবে কে ।

মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার একবছর পূর্বেই চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্যগত কারন দেখিয়ে আবে কে পদত্যাগের আগাম ঘোষণা দিতে হয়েছে। ২৮ আগস্ট ২০২০ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবে ( ৬৫ ) বলেন , শারীরিক অসুস্থতা ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’বা অন্ত্রে প্রদাহ নিয়ে সরকারের জন্য তিনি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে চান না। তাই পদত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে । ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ শেষ করার আগেই পদত্যাগ করায় জাপানের নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চান আবে শিনযো । একই সাথে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য জাপানি জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বর্তমান সংসদের বাকী সময়টা পূর্ণ করতে না পারলেও আবে-ই জাপানের ইতিহাসে শাসন করা দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

মেয়াদ পূর্ণ হ’বার একবছর পূর্বেই আবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী আবে’র এই মেয়াদ পূর্ণ হলে তার ঝুলিতে ৩,৫২৩ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসনের দায়িত্ব পালনের রেকর্ডটি জমা হতো। যা, ইতোপূর্বে ২,৮৮৩ দিন দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড গড়ে ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ‘তারো কাৎসুরা’। এর পরই রয়েছেন আবে শিনযো’র বড় চাচা ‘এইসাকু সাতো’। তিনি এক নাগাড়ে তিনবার (৯ নভেম্বর ১৯৬৪-৭ জুলাই ১৯৭২) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোট ২৭৯৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন। বেশীদিন শাসন করার সংখ্যার দিক থেকে ইতিহাসে দ্বিতীয় স্থান হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর আধুনিক জাপান এবং বর্তমান সংবিধানে এইসাকু সাতো সর্বোচ্চ স্থায়ী দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন।

মেইজি এবং তাইশো যুগে মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তারো কাৎসুরা। তিনবারে সব মিলিয়ে ২৮৮৩ দিন দায়িত্ব পালন করে এ পর্যন্ত সর্বাধিক দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিলেন তারো কাৎসুরা। ২ জুন ১৯০১ থেকে ৭ জানুয়ারী ১৯০৬ পর্যন্ত মোট ১৬৮০ দিন ( প্রথম মেয়াদ ), ১৪ জুলাই ১৯০৮ থেকে ৩০ আগস্ট ১৯১১ পর্যন্ত মোট ১১৪২ দিন ( দ্বিতীয় মেয়াদ ) এবং ২১ ডিসেম্বর ১৯১২ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী ১৯১৩ পর্যন্ত ( তৃতীয় মেয়াদ ) মোট ৬১ দিন, সব মিলিয়ে সর্ব মোট ২৮৮৩ দিন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়িত্ব পান। সূত্র – উইকিপিডিয়া

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩৬৬ দিন প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে এবং ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ১ নভেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত তৃতীয় মেয়াদে মোট ২০৯৬ দিন দায়িত্ব পালন করা সহ ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকে ২৮ আগস্ট ‘২০ শুক্রবার পদত্যাগ করার ঘোষণা দেয়া অবদি মোট ২৮০৩ দিন তিনি একটানা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন চতুর্থ বারের মতো ।

সব মিলিয়ে আবে সর্বমোট ৩১৬০ ( ৩০ আগস্ট ‘২০ পর্যন্ত ) দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন ( এই প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন আবে।

গত বছর নভেম্বর থেকে তিনি ৫ম বারের মতো দায়িত্ব পালন করার ম্যান্ডেট ( ১ নভেম্বর ১৯২১ পর্যন্ত ) ইতোমধ্যে তিনি পেয়েছিলেন দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে। আর এই ৫ম বার তিনি তার দায়িত্বের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে তিনি ই হবেন জাপানের দীর্ঘ মেয়াদী দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী যা নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, আবে হলেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি একনাগাড়ে চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হলেন। এই রেকর্ডটিও তার ই দখলে থাকবে ।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র দলীয় কনভেনশনে আবে তৃতীয় বারের মতো সভাপতি পদে জয়ী হন । তারই রানিং মেট এলডিপি’র প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল শিগেরু ইশিবা কে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করেন তিনি ।

সর্ব মোট ৮১০ ভোট সংগৃহীত হয় দলীয় কনভেনশনে। যার অর্ধেক অর্থাৎ ৪০৫ ভোট ছিল দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ডেলিগেটসদের। আর বাকি ৪০৫ ভোট ছিল সংসদের আইন প্রণেতাদের ।

দলীয় ডেলিগেটসদের ২২৪ ভোট আবের পক্ষে এবং বাকী ১৮১ ভোট ইশিবার পক্ষে পড়ে । বর্তমান সংসদের আইন প্রণেতাদের ৪০৫ ভোটের মধ্যে ৩২৯ ভোট নিজের করে পেতে সক্ষম হন । জয়ী হয়ে আবে সবাইকে নিয়ে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প ব্যাক্ত করে বলেন , আমি আপনাদের সকলের সাথে মিলে জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সংস্কার করায়ত্ব করতে চাই ।

দলীয় কনভেনশনে এলডিপির প্রথম সারির পাঁচ জন নেতা আবের পক্ষে প্রচারে কাজ করেন। এই পাঁচ জন নেতা হলেন, হিরোয়ুকি হোসোদা, তারো আসো, ফুমিও কিশিদা, তোশিহিরো নিকাই এবং নোবুতেরু ইশিহারা প্রমুখ। এর মধ্যে হিরোয়ুকি হোসোদা দলের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল ,তারো আসো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং নোবুতেরু ইশিহারা হচ্ছেন টোকিওর অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দীর্ঘমেয়াদী গভর্নর শিনতারো ইশিহারার পুত্র, আবে প্রশাসনের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ।

জাপানের ইতিহাসে মাত্র ১১ জন প্রধানমন্ত্রী একহাজার দিন অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন। তার মধ্যে তিন জনই হচ্ছেন আবে পরিবারের। এরা হলেন , আবে শিনযো ৩১৬০ দিন, তার বড় চাচা এইসাকু সাতো ২৭৯৮ দিন এবং তার নানা নোবুসুকে কিশি ১২৪১ দিন।

জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন নারুহিকো হিগাশিকুনি। মাত্র ৫৪ ( ১৭ আগস্ট ১৯৪৫ – ৯ অক্টোবর ১৯৪৫ ) দিন দায়িত্ব পালন করে তিনি ইতিহাসে স্থান করে নেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন, সানজো সানেতোমি। ৬১ দিন ( ২৫ অক্টোবর ১৮৮৯ – ২৪ ডিসেম্বর )। সুতোমো হাতা মাত্র ৬৪ দিন ( ২৮ এপ্রিল ১৯৯৪ – ৩০ জুন ১৯৯৪ ) দায়িত্ব পালন করে তৃতীয় এবং ৬৫ দিন ( ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬ – ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭ ) দায়িত্ব পালন করে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন তানযান ইশিবাশি। এর পরই রয়েছেন সোসুকে উনো। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ৬৯ দিন ( ২ জুন ১৯৮৯ – ১০ আগস্ট ১৯৮৯ )।

জাপানের রাজনীতিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা

জাপানের আভ্যন্তরীন শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করে থাকে জাপান পুলিশ।জাপান পুলিশ শান্তি পূর্ণভাবে সবাইকে যার যার কর্মসূচী পালনে সহায়তা করে থাকে। এমন একই সভায় পক্ষে বিপক্ষে কর্মসূচী পালিত হলেও কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনা সাধারনত। এইটাই জাপান। পরমত সয়িঞ্চুতা এখানে রাজনৈতিক নেতাদের বড় যোগ্যতা ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা কেবলি কল্পনায় আনা যায়, বাস্তবে নয়। একবার ভাবুন তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পল্টনে বা কোথাও বক্তব্য রাখছেন আর বিরোধীরা তার উপস্থিতিতে তারই বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। শ্লোগান দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কামনা করছে আর পুলিশ উভয় কে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ভাবা যায় ?

সর্বশেষ দলীয় প্রধান নির্বাচনের পূর্ব দিন আবে টোকিওর আকিহাবারা( বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ইলেক্ট্রনিকস মার্কেট ) রেল স্টেশন চত্বরে এক নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অংশ নেন। নির্বাচনী সভায় আবে আগামীতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় ব্যাপক বিরোধীতার সম্মুখীন হতে হয়। এসময় আবে বিরোধীরা ‘আবে কে আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না’, ‘এবার আবে পদত্যাগ করে সরে দাড়াও’, ‘আর নয় আবে’ জাতীয় প্লাকেড বহন করেন। শ্লোগানে শ্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এর ভিতর আবেকে তার বক্তব্য চালিয়ে যেতে হয় ।

জাপানেই কেবল তা সম্ভব। আর সম্ভব বলেই জাপান আজকের এই অবস্থানে । এখানকার পুলিশ জনগনের বন্ধু। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন তাদের কর্তব্য, তেমনি জনগনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাটাও তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তবে, উভয়কে পূর্ব অনুমতি নিতে হয় ।

জাপানের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রিত্ব

জাপানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হচ্ছেন শিনজো আবে। আবের দাদা ‘কান আবে’ একজন ঝানু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইয়ামাগুচি প্রিফেকচারে ছিল তার একচ্ছত্র নেতৃত্ব। আবের পিতা শিনতারো আবে ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর জাপানের অন্যতম সফল প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনের ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্র মন্ত্রী (২৭ নভেম্বর ১৯৮২-২২ জুলাই ১৯৮৬)।

শিনজো আবের নানা (পিতামহ) নোবুসুকে কিশি ছিলেন জাপানের ৫৭তম প্রধানমন্ত্রী (৩১ জানুয়ারি ১৯৫৭-১৯ জুলাই ১৯৬০)। তিনি ৯০ বছর বয়সে ৭ আগস্ট ১৯৮৭ (১৮৯৬-১৯৮৭) মৃত্যুবরণ করেন। .

জাপানের ইতিহাসে দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছাড়াও ‘আবেনোমিক্স’ এবং ‘আবে নো মাস্ক’ এর জন্যও জাপানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন আবে শিনযো।

২০১২ সালের জাপানি সাধারণ নির্বাচনে ২৬ ডিসেম্বর আবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধান অগ্রাধিকার ছিল একটি নীতির অধীনে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার যাকে তিনি “আবেনোমিক্স” নামে অভিহিত করেন।

করোনার এই ক্রান্তিকালে জাপান সরকার অনেকটা বাধ্য হয়েই জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিনা মূল্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাস্ক সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। এসব মাস্ক এখন সাধারণভাবে আবে-নো-মাস্ক বা আবের মাস্ক বা ‘আবেনোমাস্ক’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

আবের দৃশ্যমান সাফল্যের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে জাপান কে অভিবাসন বান্ধব করে আরও বেশী উন্মুক্ত সমাজে পরিনত করা। বিশেষ করে মুসলিম দেশ গুলির সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন।

এছাড়াও আবে কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবেন।

এতদসাফল্য থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় কিছু ব্যর্থতার দায়ও নিতে হচ্ছে আবেকে । তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের অর্থনীতিকে স্থবির অবস্থা থেকে বের করে আনার চেষ্টায় দৃশ্যমান তেমন অগ্রগতি অর্জন করেতে না পারা ।

তা সত্বেও আবেকে সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও একজন সজ্জন এবং অভীজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবেই আবে জাপানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। যতোদিন জাপান নামের রাষ্ট্রের অস্তীত্ব বজায় থাকবে পৃথিবীর মানচিত্রে, ততোদিন শিনযো আবে নামটিও জড়িয়ে থাকবে ।

ইতিহাসের নায়ককে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতার সাথেই স্মরন করবে জাপান ।

আবের পদত্যাগ ঘোষণায় জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগম হয়ে উঠেছে। কে হচ্ছে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে যারা এগিয়ে আছেন বা যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, আবের মন্ত্রিসভার উপপ্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দলের সাবেক মহাসচিব শিগেরু ইশিবা, চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদে সুগা , দলের মহাসচিব ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো প্রমুখদের ।

এছাড়া পরিবেশমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি、সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেইকো নোদা ও টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকে’র নামও শুনা যাচ্ছে।

এদের মধ্যে আবের পছন্দ তার মন্ত্রিসভার উপপ্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো কে। আর দলীয় সংসদ সদস্যের সমর্থন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দলের সাবেক মহাসচিব শিগেরু ইশিবা’র প্রতি। চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদে সুগা দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। গত জুলাই মাসে সংবাদ সম্মেলনে উভয়ের উপস্থিতেই সাংবাদিকরা সুগা কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। কারন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একনাগাড়ে প্রায় আট বছর চিফ কেবিনেট সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে সুগা আবের ডানহাত হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে যথেষ্ট তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। একমাত্র সুগা ই খুব কাছ থেকে আবেকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করার সৌভাগ্যের অধিকারী।

আবের উত্তরসূরি হিসেবে যিনিই আসুক না কেনো আবে গৃহীত পদক্ষেপের তেমন কোন পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন । কারন, আবের রাজনৈতিক দল এলডিপি থেকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত হবেন এবং যে নির্বাচনে আবের প্রভাব থাকবে।

rahmanmoni@gmail.com

কমিউনিটি নিউজ জাপান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.