শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ ভোগান্তি : বিকল্প পথের অনুসন্ধানে বিআইডব্লিউটিএ

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন যাবত ভোগান্তিতে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ। এরআগে গত রোববার রাত থেকে চ্যানেল বিপর্যয়ের কারণে আবারো অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নৌপথটি বন্ধ ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় আবারো বিপাকে পড়েছে এ নৌপথ ব্যবহার কারিরা। তবে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার থেকে নতুন করে চ্যানেল খনন শুরু হচ্ছে। সেই সাথে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথের জন্য লৌহজং চ্যানেল ছাড়া আরো একটি বিকল্প চ্যানেল সন্ধান করছে তাদের একটি পর্যবেক্ষক দল।

বিষয়টি দৈনিক অধিকারকে নিশ্চিত করে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ‘শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথের জন্য লৌহজং চ্যানেল ছাড়া আরো একটি বিকল্প চ্যানেলের সন্ধান করছে বিআইডব্লিউটিএর একটি পর্যবেক্ষক দল।’ এছাড়া তিনি আরো বলেন ‘পদ্মা সেতুর খুঁটি স্থাপনের পর থেকে নদীর স্রোতে প্রবাহ ঘুরেছে। ফলে নদীর চর ভাঙতে শুরু করেছে। এতে করে ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৩ লাখ ঘন ফুট পলি অপসারণ করতে হচ্ছে। এ বছর ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়ে গেছে। একদিকে পলি অপসারণ করছি অন্যদিকে চর ভেঙে ফের চ্যানেলে নাব্যতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও নদীতে আবর্জনার স্তূপ ভেসে আসার কারণে বার বার খনন যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। তাই বিকল্প চ্যানেলে সন্ধান করা হচ্ছে। ফলে আসা করা যায় আগামী দুইদিনের মধ্যে ফেরি চলাচল শুরু হবে।’

এদিকে এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াতের জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

ঘাট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস ধরেই নাব্যতা-সংকটের জন্য ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ ঘাটে এমন অচল অবস্থা এর আগে কখনো ছিল না। এমন নাব্যতা সংকট কখনো দেখা দেয়নি। এ বছরের মত এমন ভোগান্তিতেও কেউ পড়েনি। নাব্যতা-সংকটের কারণে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার বিকেল সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল। চ্যানেল সরু এবং নাব্যতা সংকটের জন্য রোববার রাত থেকে আবারো অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেরি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় কয়েকজন চালকের সাথে কথা হলে তারা জানান, রোববার সকালে ঘাটে আসি। সীমিত ফেরি চলছিল। গাড়ির সংখ্যাও কম ছিল। ভেবেছিলাম এদিন দুপুরে ফেরিতে উঠতে পারবো। আবারো আমরা এ ঘাটে এসে বিপদে পরলাম। রাতে মাইকিং করে জানানো হলো ফেরি চলাচল বন্ধ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘নাব্যতা-সংকট তৈরি হয়ে লৌহজং চ্যানেলটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই রোববার রাত থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’

শিমুলিয়া ঘাটের নৌ কর্মকর্তা আহম্মেদ আলী বলেন, ‘লৌহজং চ্যানেলে খননকাজ চলছে। ফলে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। কর্তৃপক্ষ চ্যানেল খনন করে আমাদের নির্দেশ দিলেই ফের ফেরি চলাচল শুরু হবে।’

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.