প্রাধানমন্ত্রীর কাছে লৌহজংবাসীর প্রাণের দাবি পদ্মার বাঁধ

সাজ্জাদুর সিরাজ নিবিড়: লৌহজং উপজেলা পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চল। দশকের পর দশক পদ্মার ভাঙ্গনে লৌহজং মানচিত্র হারিয়ে সংকীর্ণ হয়েছে লৌহজং উপজেলা। অতীতের দীঘলী বন্দরে জমে ওঠা লোহার ব্যবসায়ের কারণেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় লৌহজং। সেই দীঘলী আজ সম্পূর্ণভাবে নদী গর্ভে বিলীন। দীঘলী বাজার ভাঙ্গনের পরে ঘোরদৌড় বাজার কেন্দ্র করে বিকশিত হয় এই অঞ্চলের ব্যবসা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি। ২০০৪-২০০৫ সালের ভাঙ্গনে এই বাজারের সিংহভাগ পদ্মায় বিলুপ্ত হয়। প্রতিবছর পদ্মার ভাঙ্গনে ঘর হারায় এ অঞ্চলের মানুষ।

লৌহজং উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে বৌলতলী ও খিদিরপাড়া ব্যতিত প্রতিটি ইউনিয়নের জনগন প্রতি বছর ভাঙ্গনের শিকার হয়। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ২ কিলোমিটার পূর্বের গ্রাম খড়িয়া গত তিন বছর যাবত ভাঙ্গছে। ব্রাহ্মণগাঁও স্কুলের খেলার মাঠের অবস্থান আজ নদীতে। লৌহজং এর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ লৌহজং সরকারি কলেজ নদী থেকে ১০০ মিটার উত্তরে অবস্থিত, বেজগাঁও, গাঁওদিয়া, কলমা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম নদী তীরে অবস্থিত। বন্যায় ও ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী এ অঞ্চলের মানুষ আজ বিপর্যস্ত।

পদ্মা সেতুর কাজ ২০১৬ সালে শুরু হলেও লৌহজংবাসীর ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি। যে সেতু দক্ষিনের কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করবে, সেই সেতুর মাওয়া প্রান্তের মানুষ আজ উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

লৌহজং এর চরে যেখানে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক স্টেডিয়াম হওয়ার কথা ছিল তা এবছর পদ্মা গ্রাস করেছে। লৌহজং এর অন্যতম পর্যটন স্পট পদ্মা রিসোর্ট ভেঙ্গে গেছে। চরের থেকে হাজার মানুষ ভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

সমগ্র লৌহজংবাসী আজ বাঁধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। লৌহজংবাসীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজ বাঁধের আন্দোলনে সোচ্চার। লৌহজংবাসী চায় তারা যেন আর বাপের ভিটা না হারায়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি চান লৌহজংবাসী। বাঁধ প্রকল্প অনুমোদন ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারে সমগ্র লৌহজংবাসীর। তাই প্রাধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে যাতে হাজার মানুষের স্বপ্ন বেঁচে থাকে সেই চাওয়া সকলের।

গ্রাম নগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.