হাট বসিয়ে দেদার চলছে ইলিশ বেচাকেনা

ইলিশের অভয়ারণ্য মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ৮ দিনে পৃথক অভিযানে দুই শতাধিক জেলেকে কারাদণ্ড, ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১১৪টি ট্রলার জব্দ করেছে নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মৎস্য অফিস। এদিকে জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং জব্দ করা ৯৫টি ট্রলার নদীতে ডুবিয়ে দেয় নৌ-পুলিশ। তবে পদ্মা-মেঘনা তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাসমান হাট বসিয়ে দেদার বিক্রি করছে ইলিশ।

অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় পদ্মা ও মেঘনা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু জেলেরা বেপরোয়াভাবে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রেখেছে। তারা প্রতিদিন কয়েকশ মণ মা ইলিশ নিধনের পর পদ্মা-মেঘনা তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাসমান হাট বসিয়ে দেদার বিক্রি করছে ইলিশ। অপরিকল্পিত অভিযান, অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি বন্ধে অভিযান না করা এবং প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীতায় মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচা অব্যাহত থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য অসাধু জেলেদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই পদ্মা নদী রাতে অরক্ষিত থাকছে বলে জানান লৌহজং উপজেলা বিআরডিবির একাধিক কর্মকর্তা। অপরদিকে মা ইলিশ রক্ষায় নদীগুলোতে ব্যস্ত থাকায় সংশ্নিষ্ট প্রশাসন মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠের ৫ শতাধিক জাল তৈরির কারখানার অসাধু ব্যবসায়ীরা কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে অভিযান চলমান। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে মা ইলিশ জব্দ ও আটকের পর জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, লৌহজং, টঙ্গিবাড়ী, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা পদ্মা ও মেঘনা নদীঘেঁষা। তাই পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় পৃথক অভিযান চলমান। একই সঙ্গে জেলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে ৩ হাজার জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পেয়েছে। তালিকায় ভুলত্রুটি থাকায় অপর জেলেরা বাদ পড়েছে। উল্লেখ্য, মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ। প্রজননের মৌসুম নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.