পদ্মাসেতুর ৩৮তম স্প্যান বসছে বৃহস্পতিবার

বৃহস্পতিবার বসতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৮তম স্প্যান। এ লক্ষ্যে বুধবার দিনভর খুঁটিতে বেয়ারিং বসিয়ে সেটিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ৩৮তম স্প্যান বসানোর পর স্বপ্নের পদ্মারসেতুর মূল অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭০০ মিটারে রূপ নেবে। প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে পদ্মাসেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে ১ হাজার ৪১ টির বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বসানো হয়ে গেছে। সেতুর জাজিরা প্রান্তে এখন দুই কিলোমিটারের বেশী রূপ নিয়েছে রোডওয়ে। প্রতিদিনই এই দৈর্ঘ্য বাড়ছে।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জাজিরা প্রান্তের সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মাওয়া প্রান্তে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। এরপর খুঁটির ওপর একের পর এক স্প্যান বসানো কাজ অব্যাহত থাকায় সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর মাওয়া প্রান্তের মূল পদ্মায় ৯ ও ১০ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৭তম স্প্যান বসানো হয়। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৮তম স্প্যান বসানোর সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন। এই স্প্যানটি খুঁটিতে বসানো হয়ে গেলে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭০০ মিটারে রূপ নিবে।

পদ্মাসেতুতে ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। মহান বিজয়ের মাসে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকী থাকা ৩টি স্প্যান খুঁটিতে বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামো শতভাগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প এলাকায় দিন-রাত দেশী বিদেশী প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত শেষ মুর্হুতের কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে।

প্রকৌশলী সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের অদূরেই ১ ও ২ নম্বর খুঁটির অবস্থান। তাই বৃহস্পতিবার সকালে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টক জেটি থেকে ধূসর রঙয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ৩৮তম স্প্যানটি নিয়ে গন্তব্যে যাবে ক্রেনবাহি ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান-ই’। এরপর ক্রেন দিয়ে স্প্যানটির পাজরে আটকিয়ে খুঁটির ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে।

পদ্মাসেতুর ( মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানান, ৩৮তম স্প্যান বসানো হয়ে গেলে ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৯তম স্প্যান, বিজয়ের মাস আগামী ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর খুঁটির ওপর ৪০তম স্প্যান এবং ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর ৪১তম স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়েই দিনক্ষন নির্ধারণ করেই চলছে কর্মযজ্ঞ।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মাসেতু। এরপর একের পর এক বসানো হতে থাকে স্প্যান। এখন পর্যন্ত ৩৭টি স্প্যান বসে গেছে। বৃহস্পতিবার ৩৮ তম স্প্যান বসানো হয়ে গেলে বাকী থাকবে মাত্র ৩টি স্প্যান।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মাসেতুতে সব মিলিয়ে ৪২টি খুঁটি নির্মান করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এর মধ্যে ৪০টি খুঁটি থাকবে পানিতে আর ২টি ডাঙায়। ডাঙায় থাকা দু’টি খুঁটি সংযোগ সড়কের সঙ্গে মূল সেতুকে যুক্ত করবে। ৬টি মডিউলে বিভক্ত থাকবে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১ হাজার ৪৭৮ মিটার ভায়াডাক্ট বা ঝুলন্ত পথ ও জাজিরা প্রান্তে থাকবে ১ হাজার ৬৭০ মিটার।

অপরাজেয় বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.