৪৯ বছর পর একে অপরকে চিনতে পেরে কেঁদে ফেললেন ২ মুক্তিযোদ্ধা

আরিফ হোসেনঃ শনিবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশ বিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট নিয়মিত করণের লক্ষ্যে উপজেলার ১৭১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই চলছিল। মিটিং টেবিলে রাউন্ড করে বসে ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ। দুপুর আড়াইটার পর মিলনায়তনে প্রবেশ করেন উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান। তার যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলেন কমিটির সদস্য যুদ্ধকালীন কমান্ডার দেউলভোগ এলাকার সিরাজুল ইসলাম।

শামসুজ্জামান জানান, তিনি ভারতের চাকুরিয়ায় গেরিলা প্রশিক্ষন নিয়ে মেজর এম এ জলিলের অধীনে ৯ নং সেক্টরে যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে যুদ্ধ করেছেন। সিরাজুল ইসলাম জানাতে চান তার সাথে শ্রীনগরের কেউ ছিল কিনা? এসময় শামসুজ্জামান জানান সিরাজ নামে একজন তার সাথে ভারতের ক্যাম্পে ছিল। শামসুজ্জামান তখনও জানেন না তিনি যার সাথে কথা বলছেন তিনিই সেই সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম আরো যাচাই করার জন্য শামসুজ্জামানের কাছে জানতে চান ক্যাম্পের কোন দুর্ঘটনার কথা তার মনে আছে কিনা?

শামসুজ্জামান বলেন, প্রশিক্ষন শেষ হওয়ার দুদিন আগে ২১ জন প্রশিক্ষনার্থীকে বহনকারী ভারতীয় দুটি গাড়ি খাদে পরে যায়। এতে ২ প্রশিক্ষনার্থী মারা যায়। শ্রীনগরের সিরাজের কপাল কেটে গিয়েছিল। আমি তাকে বারেকপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই। শামসুজ্জামানের কথা শেষ হলে সিরাজুল ইসলাম তার মাথার টুপি খুলে কপালের কাঁটা দাগ বের করতেই শামসুজ্জামান হতবিহবল হয়ে পড়েন। তিনি টেবিলের এপাশে এসে সিরাজুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরেণ। সিরাজুল ইসলামও তাকে বুকে টেনে নেন। এতো দিন পর সহযোদ্ধাকে পেয়ে দুজনই কেঁদে ফেলেন। এসময় উপজেলা মিলনায়তনে উপস্থিত শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেয়া দেবনাথ, সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হোসেন মাস্টার, আনোয়ার খান, আব্দুল লতিফ মাস্টার, মোফাজ্জল হোসেন, শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন সহ সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পরেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান জানান, তিনি প্রায় ২২ বছর কাতারে প্রবাসী ছিলেন। অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষন নিয়ে দেশে এসে যুদ্ধের এক পর্যায়ে অড়িয়ল বিল পারে ক্যাম্প করেন। এখন তিনি ঢাকায় থাকেন।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধার ৪৯ বছর পর মিলনের যে দৃশ্য তা ভুলার নয়। পরবর্তী প্রযন্মের কাছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.