শ্রীনগরে গৃহবধূর কঙ্কাল উদ্ধারের পর হত্যা রহস্য উদঘাটন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কুলসুম বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিখোঁজের ১৯ দিনের মাথায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হয় কঙ্কাল। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অনুসন্ধানে খুনি গ্রেপ্তারের পর উদঘাটন হয়েছে হত্যা রহস্য।

নিহতের ছেলেকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর জন্য টাকা দেওয়ার পর টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে প্রতিবেশী সুমন শেখ কুলসুমকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে প্রেসব্রিফিং করে মুন্সীগঞ্জ জেলা পিবিআই।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক ব্রিফিংয়ে জানান, শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব হাঁসারগাঁও এলাকায় গত ১৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় গৃহবধূ কুলসুম বেগম। ১৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশে নিজেদের জমি থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। দুই সপ্তাহের অনুসন্ধানে চিহ্নিত হয় হত্যাকারী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের অভিযানে সিরাজদিখান এলাকার রামকৃষ্ণদি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় কুলসুমের প্রতিবেশী সুমন শেখ। গ্রেপ্তারের পর হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সুমন।

তিনি আরো জানান, মূলত নিহতের ছেলে অয়নকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর জন্য প্রতিবেশী সুমন শেখের কাছে ছয় লক্ষ টাকা দেয় কুলসুম। ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই টাকা ফেরত চাইতে সুমনের সাথে বাড়ির পাশের জমিতে দেখা করতে গেলে দা দিয়ে কুপিয়ে সুমন একাই কুলসুমকে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ কচুরিপানা ও খরকুটু দিয়ে লুুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায় সুমন।

ঘটনার ১ মাস পর ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যেরভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দা, নিহত কুলসুমের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে পিবিআই।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.