প্রতারণা করে বিয়ে, স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে স্ত্রীর মামলা

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে স্ত্রীকে অস্বীকার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হাসানের বিরুদ্ধে। স্বামীর অধিকার পাওয়ার দাবিতে ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আফসানা বেগম মিমি। গত বছর মুন্সিগঞ্জ জজ আদালতে হাজির হয়ে এই মামলা দায়ের করেন প্রতারণার শিকার আফসানা বেগম মিমি। প্রতারক হাসান পাবনা জেলার বেড়া থানার নতুন পেচাখোলা গ্রামের মো. আরিফ শেখের ছেলে।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক হাসান সাথে দুই বছর পূর্বে সহজ সরল নিরীহ গৃহিনী আফসানা বেগম মিমির সাথে ফেসবুকে পরিচয় প্রথমে প্রেম ও পরে ইসলামী শরা শরীয়ত মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিন করে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আফসানা বেগম মিমির কাছ থেকে তিনলাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে আফসানা বেগম মিমির পরিবার দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক প্রদান করে। এর পরে যৌতুকের টাকা পেয়ে মো. আরিফ শেখ তার পুত্রবধু আফসানা বেগম মিমিকে তারা বাড়িতে তুলেন।

বিয়ের কিছুদিন পর যৌতুকের টাকা শেষ হলে স্বমী হাসান, শশুর মো. আরিফ শেখ ও শাশুরি হালিমা বেগম পুনরায় বাদিনীর নিকট যৌতুক দাবি করেন। পরবর্তীতে আসামীগণ নানা সময়ে যৌতুকের টাকার জন্য আফসানা বেগম মিমিকে নির্যাতন করে। নির্যাতনের হাত হতে বাঁচার জন্য আফসানা বেগম মিমির পরিবারের লোক জন কয়েক ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু তাতেও আসামীদের যৌতুকের দাবি ও অত্যাচার নির্যাতন শেষ হয় নাই। বর্তমানে স্বমী হাসান ও তার পরিবার আবারও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন।

এ বিষয়ে আফসানা বেগম মিমি বলেন, হাসান আমাকে রেজিস্ট্রি কাবিন করে বিয়ে করে এখন যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় মুন্সিগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। মামলা নং ১৮৭/২০২০। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। আমার পরিবারের পক্ষ্যে আর যৌতুক দেয়া সম্ভব না। আমি স্বামীর অধিকার পাওয়ার দাবিতে ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন বন্ধের জন্য সমাজের সুধীজন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার স্বামী মো. হাসানের মামা নজরুল মিয়ার পরামশ্বেই আমার স্বামীর পরিবার আমাকে আরো যৌতুকের টাকা ছাড়া গ্রহণ করতে চাইছে না। টাকা না হলে মামা নজরুল মিয়া তার ভাগিনা হাসানকে অন্যত্র বিয়ে করাবে। নজরুল আমার সংসার ভাংঙ্গতে বিভিন্ন পরামশ্ব দিয়ে চলেছে।

এ বিষয়ে মো. নজরুল মিয়া বলেন, মেয়েটি ষড়যন্ত্র করে হাসানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাই তাকে কোনোভাবেই পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির গৃহবধূ হিসেবে মেনে নেয়া সম্ভব না। প্রয়োজনে আমরা থানা প্রশাসনের সহায়তা নেব।

মুন্সিগঞ্জ ডেকড়া পাড়ার বাচ্চু মাঝির স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন, পাবনা জেলার বেড়া থানার নতুন পেচাখোলা গ্রামের মো. আরিফ শেখের ছেলে প্রতারক হাসান সাথে দুই বছর পূর্বে মুন্সিগঞ্জের আব্দুলের মেয়ে আফসানা বেগম মিমির সাথে ফেসবুকে পরিচয় পরে ইসলামী শরা শরীয়ত মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিন করে বিয়ে হয়। এর পরে আমার বাসা ভাড়া নেয়। ভারা নেয়ার পর থেকে আফসানা বেগম মিমির শশুর শাশুরী ও স্বমী হাসান টাকার জন্য নির্যাতন চালাত এটা এই এলাকার সবাই জানে। হাসান একটি প্রতারক।

আফসানা বেগম মিমির বিয়ের বিষয়টি তার শশুর অশিকার করে নির্যাতনের বিষয়ে সমস্যা সমাধানের বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়ে ধৈর্য ধরার কথা বলে দিনের পর দিন ঘুরাতেন। একসময় তারা আফসানা বেগম মিমিকে কিছু টাকা নিয়ে সংসার থেকে চলে যেতে বলেন। আফসানা বেগম মিমি তাতে রাজি না হওয়ায় আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন লোকজন দিয়েও হাসানের মামা মো. নজরুল মিয়া আফসানা বেগম মিমিকে হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হাসানের সাথে তার ব্যবহৃত নাম্বারে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি কোনো যৌতুক চাইনি। তার সাথে আমার কিছুদিন আগে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো এর পরে এক সাথে থেকেছি। এর বাইরে আর কিছু নয়। তাকে আমি বিয়ে করিনি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। বিয়ের ছবির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তা অস্বীকার করেন হাসান।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.