মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরা হলো না পারভীনের

গুলিস্তানে দুই বাসের চাপায় মৃত্যু
মেয়ের চিকিৎসা করাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা আসেন পারভীন বেগম। ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরতে গুলিস্তানে বাস ধরতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে প্রাণ হারান পারভীন (৪৮)। রোববার দুপুরে গোলাপশাহ মাজারের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, বাতজ্বরে আক্রান্ত সুমাইয়া আক্তার (১৮) দীর্ঘদিন ধরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলোআপ করাতে রোববার সকালে মা-মেয়ে ঢাকায় আসেন। দুপুরের দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তারা একটি বাসে গুলিস্তান যান। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছিলেন তারা। এক পর্যায়ে পারভীন বেগম হেঁটে রাস্তা পার হতে গেলে আরাম ও এন মল্লিক পরিবহনের দুটি বাসের মাঝখানে পড়েন। তিনি বের হওয়ার চেষ্টা করলেও দুই বাসের চাপায় প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার সময় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী ওই এলাকায় গাড়ির শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছিলেন। তাদের একজন হুমায়ুন কবীর জানান, বাস দুটি ইউটার্ন নিচ্ছিল। এর মাঝেই ওই নারী চাপা পড়েন।

নিহতের স্বামী আব্দুল বাসেত পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে বোরকা বিক্রির একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলছিলেন, সকালে স্ত্রী ও মেয়ে তার সঙ্গে ঢাকা এসেছিল। এর পর তিনি দোকানে চলে যান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গুলিস্তানে তো গাড়ির কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যেভাবে পারে, সেভাবেই গাড়ি চালায়। শৃঙ্খলা থাকলে তার স্ত্রীকে এভাবে মরতে হতো না। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.