ক্ষেতের আলু যাচ্ছে হিমাগারে

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: দেশে আলুর চাহিদার মোট তিন ভাগের এক ভাগ মুন্সীগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত হয়। চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদে রোপণ করা ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপণ করা আলু উত্তোলনের পর তা এখন বস্তাবন্দি করে হিমাগারে নেওয়া হচ্ছে। আর জমি থেকে এসব আলু হিমাগারে নিতে উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকরা বাইসাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করছেন। এখন জেলার সিরাজদীখান, শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকদের আলু বহন করার দৃশ্য।

হাজার হাজার শ্রমিক জমি থেকে উত্তোলন করা আলু হিমাগারে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ১৫ থেকে ২০ জন দলবদ্ধ হয়ে কৃষকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে জমিতে রাখা বস্তাভর্তি আলু বাইসাইকেলে এবং ঘোড়ার গাড়িতে উঠিয়ে জেলার ৬৭টি হিমাগারে পৌঁছে দিচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে আলুর বস্তা নেওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন জেলার মানুষজন এবং বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলরত পথচারীরা। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরানদাহ গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী রূপসী রানী দাস। পাঁচ বছরের আরতী রানী ও সাত বছরের গৌরি রানীকে নিয়ে গত দেড় মাস ধরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে আলু উত্তোলন ও পরিবহন কাজ করছেন। স্বামী গোবিন্দ চন্দ্র জমি থেকে আলুর বস্তা মাথায় বহন করে হিমাগারে পৌঁছে দিচ্ছেন, আর স্ত্রী রপসী রানী জমি থেকে আলু উত্তোলন করার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বগুড়া থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ শ্রমিক মো. শাহজাহান জানান, তিনি গত এক মাস আগে বগুড়া থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে এসেছেন। থাকবেন আরও দুই মাস। তিনিসহ ৯ জন দলবদ্ধ হয়ে বস্তাভর্তি আলু জমি থেকে হিমাগারে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন। ভোরের সূর্য ওঠার পর থেকেই বাইসাইকেলে জমি থেকে হিমাগারে পৌঁছে দিচ্ছি। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরাম চলছে তাদের কাজ। প্রতিবারই এই মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলায় ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকের কাজে আমরা দল বেঁধে আসি, সঙ্গে নিয়ে আসা হয় বাইসাইকেলটি। ৫০ কেজি ওজনের চারটি আলুর বস্তা সাইকেলে বিশেষ কায়দায় রেখে হিমাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফরিদপুর থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ নারী শ্রমিক সুফিয়া বেগম বলেন, আলু উত্তোলনের কাজে এখানে আসা। মজুরি নির্ধারণ হয় চুক্তিভিত্তিতে অথবা দৈনন্দিন কাজ অনুযায়ী। প্রতিদিন আলু উত্তোলন করে মজুরি পাই ৩৫০ টাকা, সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকদের জন্য রান্নার কাজ করে বাড়তি কিছু টাকা পাই। আলু উত্তোলন কাজ করি এবং আমার স্বামী জমি থেকে উত্তোলন করা বস্তাভর্তি আলু হিমাগারে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিবারই এই অঞ্চলে ১০ থেকে ১২ জন মিলে দলবদ্ধ হয়ে চলে আসি।

লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের কৃষক আফজাল আলী জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা আলু উত্তোলন এবং পরিবহনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকরা আসেন। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের সংখ্যা কম হওয়ায় বাইরের জেলা থেকে প্রতিবছরই শ্রমিকদের বিশাল একটি অংশ আলু উত্তোলন এবং জমি থেকে হিমাগারে পৌঁছানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটান। তাদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয়। তাই ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকের চাহিদাও বেশি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.