মুন্সিগঞ্জে ট্রিপল মার্ডারে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

রিয়াদ হোসাইন: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় সালিসে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০ থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টার কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির শুরুতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উত্তর ইসলামপুর এলাকা হয়ে মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্সিগঞ্জে একসাথে তিনজনকে খুন এটিই প্রথম। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডে যারা মূল আসামিদের মধ্যে সৌরভ, সিহাব, শামীম, শাকিবরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। এসব ভয়ঙ্কর আসামিরা এলাকার ত্রাস। আসামিদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে তারা যেখানেই থাকুক এর চাইতে আরও বড় ঘটনা ঘটাতে পারে। এ জন্য দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

নিহত মিন্টু প্রধানের স্ত্রী খালেদ আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে বিনা কারণে হত্যা করলো। যারা আমার তিনটা ছোট ছেলেমেয়েকে হত্যা করলো। আমরা তাদের ফাঁসি চাই।

নিহত সাকিবের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, ঘটনার দিন আসামি শামীম প্রধান আমার চোখের সামনে, আমার ছেলেকে প্রথম আঘাত করেছিল। চোখের সামনে একমাত্র ছেলেকে হত্যা করলো। এ ঘটনায় শামীমের দুই ভাই সিহাব প্রধান ও শাকবি প্রধান সরাসরি জড়িত। তারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমি আমার ছেলেসহ তিন খুনের সাথে যারা জড়িত সবার ফাঁসি চাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ পৌর মেয়র ফয়সার বিল্পব, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সোহেল, উত্তর ইসলামপুর আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মুন্সিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি গোলজার হোসেন, পৌর প্যানেল মেয়র সোহেল রানা রানু, কাউন্সিলর শফিকুল হাসান, নাট্যকার হুমায়ূণ ফরিদি।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উত্তর ইসলামপুর এলাকায় দুটি কিশোর গ্যাং এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সমস্যার সমাধান করতে সেদিন রাত ১০ টার দিকে দু’পক্ষকে নিয়ে সালিসে বসা হয়। সেখানে সৌরভ, সিহাব, শামীম পক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ যায় অপর পক্ষের মো. ইমন হোসেন (২২), মো. সাকিব হোসেন (১৯) ও মিন্টু প্রধান (৪০)। এ দুই পক্ষের সবার বাড়ি উত্তর ইসলামপুর এলাকায়।

নিহত মিন্টু প্রধানের স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর একটি হত্যা মামলা করে। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.