ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ির ফ্লাই ওভারের নীচে অসহনীয় জ্যাম

আরিফ হোসেনঃ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ির ফ্লাই ওভারের নীচে প্রতিদিন অসহনীয় জ্যাম লেগে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই স্থানের জ্যামে নাকাল হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে নির্মানের পর থেকে শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলা থেকে শ্রীনগর বাজার এবং বিভিন্ন দপ্তরে এই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে চলাচলের প্রধান পথ হওয়ায়, অটোরিক্সা,বাস,পিকআপ,ট্রাক সহ ৮টি রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন চতুর্মুখী যাতায়াত করে। একারণে প্রয়োজনের তুলনায় সরু পথ দিয়ে কে কার আগে যাবে এমন প্রতিযোগীতা করতে গিয়েই জ্যামের শুরু হয়। পরে সময়ের সাথে সাথে তা দীর্ঘ হতে থাকে।

রবিবার বেলা ১১ টা ও সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরজমিনে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের নীচের জ্যাম একপ্রেসওয়ের ২ পাশের সার্ভিস লেনে ও শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে। শ্রীনগর থানা পুলিশ শত চেষ্টা করেও জ্যামের জট খুলতে পারছে না। যাত্রীরা কেউ কেউ অর্ধ কিলোমিটার ঘুরে ঝুঁকি নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের বেড়া ডিঙ্গিয়ে রাস্তা পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে।বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যাংক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের সময়সীমা সীমিত করার পর থেকে এই জ্যাম প্রকট আকাড় ধারণ করেছে। জ্যামে আটকে থাকা সিংপাড়া এলাকার ষাটোর্ধ নারী জমিলা খাতুনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ১১ বছরের নাতিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছেন। দেড় ঘন্টা ধরে আটকে আছেন। অটোওয়ালা চিল্লচিল্লি করছেন। কি করবেন বুঝতে পারছেন না। একটি বেসকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচল বন্ধ। পোস্তগোলা থেকে দু’শ টাকায় সিএসজি চালিত অটোরিক্সায় অন্য যাত্রীদের সাথে শেয়ার করে ছনবাড়ি এসেছেন। এখান থেকে অটো নিয়ে মাঝপথে অটকে আছেন প্রায় ১ ঘন্টা ধরে। অফিসের বড় অফিসার ফোন করে রাগারাগি করছেন। তিনি মানতে চাচ্ছেন না এখানে জ্যাম লাগতে পারে।

অটোরিক্সা চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, উমপাড়া থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়েছেন আরধীপাড়া টেক্কামার্কেট যাবেন বলে। এখানে এসে আটকে আছেন দুই ঘন্টা ধরে। যাত্রী ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে নেমে গেছেন। প্রতিদিন আমার মত অনেক অটোচালককেই এমন পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে। এই জ্যামের কারনে আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। কিন্তু প্রতিটি অটোর জন্য মালিককে দিতে হয় দিন প্রতি ৩শ টাকা। জমা দিয়ে নিজের হাত খরচের পর পরিবারের জন্য তেমন কিছু থাকে না। ওই পথে চলালচকারী শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম শ্যামল বলেন, রাস্তাটি নির্মানের সময় এই রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীর চাপ নিয়ে ভাবা উচিৎ ছিল। জ্যামের এই স্থান থেকেই সামান্য দুরে রেল ব্রিজের কাজ হচ্ছে। ভাল ভাবে বিকল্প রাস্তা তৈরি না করেই অবিবেচকের মতো মাটি দিয়ে উচু নিচু রাস্তা তৈরি করে চালিয়ে দিচ্ছে। অনেকদিন ধরেই যানবাহন চলাচল করার সময় মনে হয় ধুলি ঝড় হচ্ছে। কিন্তু কতৃপক্ষ রেল সেতুর নীচে বিকল্প রাস্তা ও এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের নীচের রাস্তায় নজর না দেওয়ার এই অঞ্চলের বহু মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.