জগতখ্যাত জাপানী সততা

রাহমান মনি: মেড ইন জাপান যেমন জগতখ্যাত তেমনি জাপানী সততাও জগতখ্যাত প্রবাদটি জানা ছিল জাপান আসার পূর্ব থেকেই। জাপান আসার পর ধীরে ধীরে তার কিছু কিছু প্রমানও পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার জন্য যে সততার এমন একটি উদাহরণ অপেক্ষা করতেছিল তা দেখার জন্য মানুষিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আর এমন-ই একটি ঘটনা যা বাংলা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসের ঘটনা।

জাপানের ইতিহাসের অতন্ত্য সফল প্রধানমন্ত্রী আবে শিনজো’র দ্বিতীয় কেবিনেট এর কৃষি, বনজ ও মৎস্য ছিলেন মন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি। ইতোপূর্বেও যিনি একই দায়ীত্বে আসীন ছিলেন এবং ৩য় ও ৪র্থ কেবিনেট এর শিক্ষা পুনর্নির্মাণের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে ইয়োশিমাসা হায়াশি সম্পর্কে একটু জ্ঞ্যাত করা যাক।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সদস্য ইয়ামাগুচি নির্বাচনী এলাকা থেকে চার চারবারের নির্বাচিত হাউস অফ কাউন্সিলর ইয়োশিমাসা হায়াশি ১৯৮৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সমাপ্ত করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় জন এফ, কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্ট থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর প্রাপ্ত হয়ে ১৯৯২ রাজনীতিতে প্রবেশ করে ১৯৯৫ সালে এলডিপি থেকে হাউস অফ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি তাঁর পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক ও কর সংস্কারে মনোনিবেশ করেন।

হায়াসি প্রথম ২০০৮ সালের আগস্ট-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে মন্ত্রিসভায় নিযুক্ত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নীতি প্রতিমন্ত্রী, চেয়ারম্যান, হাউস অফ কাউন্সিলরদের এলডিপি পলিসি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, এলডিপি নীতি গবেষণা কাউন্সিল, চেয়ারম্যান, হাউস অফ কাউন্সিলরগুলিতে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি, কাউন্সিলরদের হাউসে এলডিপির ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল- এর দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও একাধিকবার কৃষি, বনজ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে টোকিওর অভিজাত এলাকার ‘রোপপনগি হিলস’-এ ইয়োশিমাসা হায়াশির নির্বাচনী এলাকা ইয়ামাগুচি -তে উৎপন্ন কৃষিজ, বনজ এবং মৎস্য সম্পদের উপর একটি প্রদর্শনী/মেলা হয় যার প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন ইয়োশিমাসা হায়াশি। আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলাম অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে আমি নিজেও।

এখানে বলে রাখা ভালো জাপানে প্রায়শই এলাকাভিত্তিক উৎপন্ন পণ্যের মেলা বসে টোকিও সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। এক এলাকার অন্য এলাকায় প্রসারের জন্য এসব মেলার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে কৃষিখাত থেকে উৎপন্ন পণ্যের।

মেলায় প্রধান অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্য ও উদ্ভোধনী ঘোষণা শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখার সময় মন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি জাপান প্রসিদ্ধ নিজ এলাকার পছন্দের ২টি নাশপাতি কিনেন ৩০০ ইয়েন দিয়ে। এই সময় তিনি পকেট থেকে একটি খুঁতি বের করে চার ভাঁজ করা এক হাজার ইয়েনের একটি নোট বের করে সেলস গার্ল এর হাতে দিলে সেলস গার্ল মন্ত্রীকে বাকী ৭০০ ( একটি ৫০০ ইয়েন এবং ২ টি ১০০ শত ইয়েন এর কয়েন) শত ফেরত দেন। মেলা হওয়ায় লেনদেন হাতে হাতেই হিসেব নিকেশ হয়। পলিথিন ব্যাগে নিজ হাতেই তিনি তা বহন করে চললেন।

তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিংবা সঙ্গীদের কারোর কাছেই দিলেন না। হয়তো নিজের কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন, কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাপারে নিরাপত্তা কর্মীদের বা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে চাননি। এ সবই আমার আন্দাজ মাত্র। ভিন্ন কিছুও হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি চিন্তা করতেছিলাম একজন মন্ত্রী প্রধান অতিথি হয়েও নিজ পকেট থেকে খুঁতি বের করে অর্থ খরচ করে নিজ এলাকার ফল কিনে নিলেন। আর বাংলাদেশ হলে, মন্ত্রী কর্তৃক কিনা তো দূরের কথা, এমনিতেই তাঁর বাসায় চলে যেতো। আর যদি একান্তই কিনার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন, তাহলে সঙ্গে থাকা —রা-ই মন্ত্রীর আগে পরিশোধ করে দিতেন।

কি জানি কোন খেয়ালবশত মন্ত্রী হায়াশি একটু পরেই ঘুরে এসে নাশপাতির আরও একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে কিনার ইচ্ছা প্রকাশ করে ৫০০ ইয়েন এর কয়েনটি সেলস গার্ল এর হাতে তুলে দিয়ে হাত পেতে রইলেন বাড়তি অর্থ ফেরত পাবার আশায় এবং এটাই স্বাভাবিকতা।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেলস গার্ল মন্ত্রীর কাছে আরো ১০০ ইয়েন দাবী করে বসলেন। ভুল করেই সেলস গার্ল এই কাজটি করে বসলেন।

তার ভুলটি হ’লো, মন্ত্রীর হাতে যে আরও একটি প্যাকেট(পূর্বে ক্রয় করা) ছিল তা সহ ২টি ভেবে ২টির মূল্য দাবী করে বসেন। ব্যস্ততার জন্য আগেরটির মূল্য গ্রহনের কথা বেমালুম ভুলে বসেছেন হয়তো। মন্ত্রী তাকে বলেন যে এইটি আগে ক্রয় করা হয়েছে এবং যথারীতি মুল্য পরিশোধ করা হয়েছে, কিন্তু তাতে সেলস গার্ল বিশ্বাস করলো বলে মনে হ’লো না। আবারও মূল্য দাবী করলো।

জাপানীরা সাধারনত কাস্টমারকে দেবতাতুল্য মনে করে তার সঙ্গে তর্কে জড়ানো তো দূরের কথা অন্যায় না করেও আগেই ক্ষমা চেয়ে মাথা নত করে থাকে। কাস্টমারের কোন মিথ্যা অভিযোগও তারা মাথা পেতে নেয়।

কিন্তু সেলস গার্লটি একটু ভিন্ন। মন্ত্রী কেই চ্যালেঞ্জ করে বসলো। নাছোড় বান্দা। হয়তোবা দিন শেষে হিসেবের গরমিলের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

এদিকে মন্ত্রীও তার সততায় অটল। কিছুটা আত্মসন্মানের ব্যাপারও।

বাংলাদেশ হলে এতক্ষণে জটলা বেঁধে যেত। কিন্তু এটা জাপান। এখানে সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। অন্যের ব্যাপারে অযথা নাক গলাতে চান না। তবে, কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে ভেবে পদস্থ কেউ একজন এগিয়ে আসলে মন্ত্রী তাকে বিস্তারিত জানালে তিনি লজ্জায় পড়ে যান এবং মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সেলস গার্লকে ডেকে কিছুটা তিরস্কারও করেন। সাথে সাথে সেও মাথা নুইয়ে দেয়। আর অমনি স্থানীয় একজন সাংবাদিক তার ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজ বের করে মন্ত্রীর দাবীর সত্যতা তুলে ধরলেন।

ভুল হতেই পারে এবং ভুল মানুষই করে আর মানুষই স্বীকার করে তা সংশোধন করে। শয়তান ভুল করেও তা স্বীকার করেনা বরং ধরে রাখে। সেলস গার্লটি সেই সত্যতার প্রমান রেখে ভুল সংশোধন করে ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং পিতৃতুল্য মন্ত্রী হায়াশিও হাসিমুখেই ক্ষমা করে দেন এবং সাথে তারও ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করে সেলস গার্লটির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

মন্ত্রী নিজের ভুল বলতে তিনি একসাথে ২টি না কিনে ২ বার বিরক্ত করাকে বুঝিয়েছেন তাই তার এ ক্ষমা প্রার্থনা।

একজন মন্ত্রী যিনি কিনা একটি আয়োজনে প্রধান অতিথি এবং তারই ঘোষণায় যেই মেলার উদ্ভোধন হয়েছে সেই আয়োজনের একটি কর্নারের একজন সেলস গার্ল কর্তৃক তাকে চ্যালেঞ্জ বাংলা সিনেমার আজগুবি কল্পকাহিনীকেও হার মানায়।

তবে, বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটার কোন সম্ভাবনা নেই, কারন বাংলাদেশে গাঁটের পয়সা বের করে মন্ত্রীদের নিজে শপিং করার রেওয়াজ নেই। আর যদি ঘটেও তাহলে এহেন ব্যবহারের জন্য সেলস গার্লের — মৃতদেহ কোন ঝোপঝাড় কিংবা এদিক সেদিকে পড়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশী থাকবে।

জাপানে একজন মন্ত্রী নিয়োগ পান জনগনের প্রত্যেক্ষ্য ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে। তাই, জনগনের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থাকে। জনগণের সমর্থন থাকায় নির্দ্বিধায় তাদের সাথে মিশে যেতে পারেন। স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করে স্বাধীনভাবে পছন্দের পণ্য কিনতে পারেন। এরমধ্যে ভালোলাগার একটা সুখানুভূতি কাজ করে।

আর আমাদের মন্ত্রীরা নিয়োগ পান পেশী শক্তির মাধ্যমে কথিত নির্বাচন নির্বাচন খেলায় জনগনের বিনা সমর্থনে জয়ী নামের কলঙ্কের তীলক মাথায় নিয়ে দলীয় প্রধানের আনুকুল্যে মন্ত্রী বনে যান। জনগনের জন্য কোন দায়বদ্ধতা থাকেনা বরং ভীতি কাজ করে। তাই সারাক্ষন পেশীশক্তি দ্বারা ঘিরে থাকতে হয়। স্বাধীনতার স্বাদ তারা পান না। নিজেরাই নিজেদের জালে বন্দি হয়ে থাকেন। সব সময় একটা ভয় কাজ করে এমন কি নিজের ছায়াটাও ভয়ের কারন হয়ে দাঁড়ায়।

নেতার মধ্যে যদি সততা থাকে এবং জনগনের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে তাহলে যে কেহ মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করার সৎ সাহস (যদিও এখানে সাময়িক ভুল বুঝাবুঝির অবতারণা মাত্র) রাখে এবং মন্ত্রীও তা গ্রহন করে নিজ সততার স্বাক্ষর রাখেন।

জাপানে অসতর্কতায় সামান্য একটি বেফাঁস বাক্য ব্যয় কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য অর্থ ব্যয়ও ক্ষমতা এবং খ্যতি দু’টা-ই চলে যেতে পারে এবং যায়ও। এর ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে জাপানে।

আর আমাদের দেশে যে নেতা যতো বেশী অশালীন ভাষায় বিরোধী মতের প্রতি আক্রমণ করতে পারে তার কদর ততো বেশী। আর অর্থ ! যে যতো অর্থ তছরুপ করতে পারে তার উন্নতি ততো শনৈই শনৈই । ক্ষমতায় মন্ত্রীদের কথা না-ই বা বললাম, স্ত্রীর সম্পদ ২,৫০০ গুন বেড়ে যাওয়ার খবরও আমরা জেনেছি। যদিও তিনি একজন গৃহিণী। আবার সম্পদের হিসেব নেয়ার কথা বলে কোটিপতি বনে গেছেন এমন উদাহরণও রয়েছে আমাদের দেশে।

অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সত্বেও গত মেয়াদে তার সম্পদের পরিমান কমেছে প্রায় ৪৫.১ শতাংশ। অর্থাৎ ৫ বছরে প্রায় অর্ধেক কমেছে। আমাদের দেশে এমন উদাহরন আছে কি ?

জাপানে যে দুর্নীতি একেবারেই হয়না তা কিন্তু নয়। হয়। তবে, সংখ্যায় খুবই কম হলেও তার প্রতিক্রিয়া হয়, জবাবদিহীতা করতে হয় এবং এক পর্যায়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আর এই ব্যাপারে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে থাকে মিডিয়া। আর ক্ষমতাসীনদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মিডিয়ার ভুমিকা বলার অপেক্ষা রাখে না। সকলেরই তা জানা ।

একটা সময় ছিল মানুষ মিথ্যা কথা বললে মিডিয়া সত্যটা খুঁজে বের করে আনতো । আর বর্তমানে বাংলাদেশে মিডিয়া মিথ্যার পক্ষে বলে আর মানুষ সত্যটা খোঁজার চেষ্টা করে।

আর সততা ! বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের সততা কাজীর গরু কেতাবে থাকলেও, গোয়ালে তার অস্তিত্ব না থাকার মতোই।

জাপানীদের সততার উদাহরণ শুধু যে জাপানেই সীমাবদ্ধ থাকে তা কিন্তু নয়। এইতো মাত্র দেড় বছর আগের কথা। বাংলাদেশে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী এ তিন সেতুর নির্মাণ ব্যয় অনুমোদন হয় ৮৪৮৬ কোটি টাকায়। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল। নির্মাণ কাজ পেয়েছিল জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ওবায়াশি কর্পোরেশন, সিমিজু কর্পোরেশন এবং জে এফ ই ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন।

সেতু তিনটি নির্মাণে দায়িত্ব পাওয়া জাপানি কোম্পানি গুলি সাত মাস আগেই কাজ শেষ করে ফেলে। শুধু কি তাই, নির্মাণে ৭৭৮৬ কোটি খরচ হওয়ায় জাপানি কোম্পানি গুলো বরাদ্দ থেকে বেঁচে যাওয়া ৭০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দিয়ে নজিরবিহীন সততার প্রমান রাখেন।

২০১৮ সালে ১৯ জুন রাশিয়া বিশ্বজাপ এ কলম্বিয়ার সাথে ২-১ গোলে জিতে জাপান। সাধারণত বিশ্বকাপে উত্তেজনাপূর্ণ কোন ম্যাচ শেষ হওয়ার পর গ্যালারির আসনগুলোতে সাধারণত উচ্ছিষ্ট খাবার, গ্লাস, কাপ, বোতল, প্লাস্টিক ও কাগজের ঠোঙ্গা বা প্যাকেট ইত্যাদি আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। জয়ী দলের সমর্থকরা আনন্দ উল্লাসে মেতে থেকে স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।

কিন্তু , বিশ্বকাপে উত্তেজনাপূর্ণ কোন ম্যাচ শেষ হওয়ার পর গ্যালারির আসনগুলোতে সাধারণত উচ্ছিষ্ট খাবার, গ্লাস, কাপ, বোতল, প্লাস্টিক ও কাগজের ঠোঙ্গা বা প্যাকেট ইত্যাদি আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে।

খেলার মাঠে কলম্বিয়াকে ধরাশায়ী করার পর জাপানের সমর্থকরা কিন্তু গ্যালারিতে শুধু আনন্দ উল্লাসেই মেতে থাকেনি, বরং তারা গ্যালারি পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে যান। স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের সারিতে ও আসনে যেসব আবর্জনা ছিল সেগুলো তারা নিজেরাই পরিষ্কার করে তবেই ফিরে।

এই হ’লো জাপানী জাতি। যেখানেই বা যে কাজেই সংশ্লিস্ট থাকুক না কেন জাপানী মডেল বা স্বকীয়তা বজায় রাখবেই।

যে দেশে একজন মন্ত্রী প্রধান অতিথি হয়েও নিজ পকেট থেকে খরচ করতে পারেন, মুল্য পরিশোধ করা সত্বেও একজন সেলস গার্ল কর্তৃক হয়রানীর শিকার হয়েও স্বাভাবিক থেকে সামাল দেয়া নিজ সততার-ই বহিঃপ্রকাশ । জগতখ্যাত জাপানী সততা।

rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.