শ্রীনগর উপজেলার প্রধান সড়কটি প্রায় ১ বছর ধরে খুঁড়ে রাখার পর প্রকৌশলী বললেন “ কাজ শেষ হবে, দুশ্চিন্তার কিছু নেই”

আরিফ হোসেনঃ শ্রীনগর উপজেলার প্রধান সড়ক হিসাবে পরিচিত চকবাজার থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি প্রায় ১ বছর ধরে খুড়ে রাখা হয়েছে। রাস্তাটি কবে ঠিক হবে, এর ঠিকাদার কে, বাজেট কত এবং কার্য সম্পাদনে কত সময় উল্লেখ রয়েছে এমন প্রশ্নে শ্রীনগর সড়ক উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সৈয়দ আলম ঠিকাদারের নাম,বাজেট ও কার্য সম্পাদনের সময় বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “ কাজ হবে, দুশ্চিন্তার কিছু নেই”।

শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তাটি ব্যবহার করে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, শ্রীনগর থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণী সম্পদ অফিস সহ উপজেলার প্রায় সকল দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। উপজেলার বেশীর ভাগ বেসরকারী ক্লিনিক এই রাস্তার পাশে অবস্থিত। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মুমুর্ষ রোগী সহ প্রসূতিরা গত ১ বছর ধরে কি রকম কষ্ট ভোগ করেছেন তা ভুক্তভোগীদের পরিবার ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। এবরো থেবরো রাস্তাটি দিয়ে রিক্সা বা অটোরিক্সায় ৫ মিটির পথ গেলেই যে কোন সুস্থ্য মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পরেন। দুর্ভোগ এড়াতে অনেক রোগীকে যানবাহনে না নিয়ে হাঁটিয়ে নিতে দেখা যায়।

শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,ভাইস চেয়ারম্যান বৃন্দ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সহ উপজেলার নীতি নীর্ধারকদের সবাই এই রাস্তা দিয়েই কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। রাস্তাটির এই বেহাল অবস্থা কারো চোখে পরেনি এমন কোন কর্তা ব্যক্তি উপজেলায় নেই। কিন্তু গত ১ বছর ধরে এই রাস্তাটির সংস্কার কাজের কোন রকম অগ্রগতি নেই।

শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাস্তাটির কারণে গত ১ বছরে তাদের ক্রেতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কবে এই রাস্তা ঠিক হবে তার উপর নির্ভর করছে আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবো কিনা।

রাস্তাটির কাজ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন নির্ধারিত ভাড়ায় এই রাস্তায় শত শত অটোরিক্সা চলাচল করলেও এখন সহজে কেউ ওই রাস্তায় যেতে রাজি হয়না। যারা যায় তাদেরকে প্রদান করতে হয় দ্বিগুন থেকে তিনগুন ভাড়া। অটোরিক্সা চালক মোঃ আলামিন বলেন, প্রতিদিন এই রস্তায় সারাদিন অটো চালিয়ে তার আয় ছিল প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। এখন ভাড়া বেশী কিন্তু কোনদিনই ৪শ থেকে ৫শ টাকার বেশী আয় করতে পারেন না। উল্টো ভাড়া বেশী চাইলে যাত্রীরা রাগারাগি করে। ঝাকির কারণে অটোরিক্সা প্রায়দিনই নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক করতেও লাগে বাড়তি অর্থ।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা নিরুপায় হয়ে এখানে এসেছেন। রাস্তাটির কারনে রোগীরা প্রায়ই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তুু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হলে এই রাস্তা ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাবেন সেই সামার্থও নেই।

শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা বলেন, গত রোজার ঈদের পর রাস্তাটির খোড়াখুড়ি শুরু হয়। কোরবানীর আগে আরেক ধাপ খোড়াখুড়ি দেখে মনে হয়েছিল কাজ শেষ হবে।কিন্তু অজ্ঞাত কারনে রাস্তাটির কাজ শেষ হচ্ছে না।

শ্রীনগর সড়ক উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সৈয়দ আলমের সাথে পর পর কয়েকদিন তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অনেকবার চেষ্টা করার পর তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়। এসময় তিনি বলেন উর্ধতনদের নির্দেশে তিনি পোস্তগোলা অফিসে কাজ করেন বিধায় প্রতিনিয়ত শ্রীনগরে আসা হয়না। শ্রীনগরে প্রধান সড়কটির কাজ কেন থেমে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই রাস্তাটির প্রকল্প অন্য স্থান থেকে কেটে আনা হয়েছেও। এসময় তিনি রাস্তাটির ঠিকাদার কে,বাজেট কত ও কার্য সম্পাদনের সময় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “ কাজ শেষ হবে, দুশ্চিন্তার কিছু নেই”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.