করোনা চিকিৎসায় যাচ্ছিলেন ডাক্তার, মামলা দিলো পুলিশ

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডা. নাজমুল ইসলাম। লকডাউনের প্রথম দিনের সকালেই তাকে পড়তে হয়েছে বিপত্তিতে। মুন্সীগঞ্জ থেকে হাসপাতালে ডিউটিতে যাওয়ার সময় রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তাকে আটকে দেওয়া হলো। চিকিৎসক পরিচয় জানিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও লকডাউনের মধ্যে বের হওয়ায় তাকে মামলা দেওয়া হয়। অথচ জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের চলাফেরায় মুভমেন্ট পাস লাগবে না বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

মঙ্গলবার মুভমেন্ট পাস অ্যাপ ও ওয়েবসাইট উদ্বোধনের সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের এই পাস নিতে হবে না। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস, পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণকারী সদস্যসহ এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্যরা জরুরি প্রয়োজনে বের হতে পারবেন।

এক বছর ধরে স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ডিউটি করছেন ডা. নাজমুল ইসলাম। নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। মুন্সীগঞ্জ থেকে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে হাসপাতালে যাতায়াত করেন তিনি। সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সম্পৃক্তদের লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়। তারপরও লকডাউনে চলাচলের জন্য পুলিশের মুভমেন্ট পাস নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অনলাইনে সার্ভার জটিলতায় চেষ্টা করেও পাস নিতে পারেননি ডা. নাজমুল।

বাংলা ট্রিবিউনকে এই চিকিৎসক বলেন, ওয়ারীর কোডা মসজিদের কাছাকাছি একটা চেকপোস্ট ছিল। তখন প্রায় পৌনে ৮টা বাজে। সেখানে আমার গাড়ি থামলো, আমি আমার আইডি কার্ড দেখালাম, তাদের জানালাম আমি করোনা ইউনিটে ডিউটি করি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বললেন চলে যেতে। এরমধ্যে আরেকজন এসে বললো, মুভমেন্ট পাস না থাকলে মামলা হবে। তাদের আমি আইডি কার্ডও দেখলাম। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত মামলা দিলেন। আমি অবাক হয়ে গেলাম।

ডা. নামজুল জানালেন, তার বাবা করোনা আক্রান্ত, দিন শেষে বাড়ি গিয়ে বাবার দেখাশোনা নিজেই করেন। পুলিশের চেকপোস্টে দেরি হওয়ায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে।

নাজমুল ইসলামের গাড়ির বিরুদ্ধে করা পুলিশের মামলার কপি বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। সেখানে লেখা আছে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৯২(১) ধারার তাকে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই ধারার অন্তর্ভুক্ত অপরাধগুলো হচ্ছে, মোটরসাইকেলে তিন জন বসা, হেলমেট না পরা, ফুটপাতের ওপর মোটরসাইকেল চালানো, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বললে, সিট বেল্ট না বাঁধা ইত্যাদি। আর এ জন্য পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, আমার গাড়িটি নতুন, সব কাগজপত্র আপডেট। সে সময় আমার গাড়ির চালক মোবাইলে কথা বলেননি। আমরা সিট বেল্টও পরা ছিলাম। আর মামলা দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা বলছিলেন, লকডাউনে মুভমেন্ট পাস না থাকায় তারা মামলা দিচ্ছে। এখন তারা কেন এই ধারায় মামলা দিলো তা তো আমি বুঝতে পারছি না ।

মামলার কেস আইডি 1006087394, মামলাটি দেওয়া হয় নাজমুল ইসলামের গাড়িচালক নিজামুর রহমানের নামে। মামলাটি ২(১) ধারার দেওয়া হলেও মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি আদেশ অমান্য’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি ট্রাফিক (ওয়ারী) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যাদের চলাচলের অনুমতি আছে তাদের বাধা দেওয়ার কোনও কারণ নেই। ডাক্তারদের বাধা দেওয়ার কোনও কারণ নেই। আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ আসেনি।

তিনি আরও বলেন, এখন শত শত ঘটনার মধ্যে কোথাও ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। হয়তো অন্য কোনও সমস্যাও থাকতে পারে। পুলিশ ফ্রন্টলাইনার হিসেবে মানবিকভাবেই কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.