মুন্সীগঞ্জের যে কোন হত্যা মামলার মধ্যে শ্রীনগরের পারভীন হত্যাকান্ডের চার্জশীট দ্রুততম

আরিফ হোসেনঃ শ্রীনগরে পারভীন হত্যাকান্ডের ৭২ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম জানান, মুন্সীগঞ্জের মধ্যে আর কোন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এতো দ্রুত চার্জশীট প্রদান করা হয়নি। এর আগে পারভীন হত্যাকান্ডে জড়িত একমাত্র আসামী তার স্বামী অহিদুল মুন্সী মুন্সীগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে জবানবন্দী দেয়।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা জানান, রবিবার মামলাটির চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। চার্জশীট নম্বর ১২৮।ধারা দন্ডবিধির ৩০২ ও ২০১।মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার ওসি(অপারেশন) মোঃ আজগর হোসেন।

মাত্র ৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য কাঁচি দিয়ে গলা কেটে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছে স্বামী। গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বানিয়াবাড়ি বাঘাডাঙ্গা এলাকার ভ্যান চালক অহিদুল মুন্সী তার স্ত্রী পারভীন বেগমকে সুকৌশলে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দুরে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে নির্দোষ প্রমানের জন্য স্ত্রীর সাথে নিজেও অপহৃত হয়েছিলেন বলে নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ পারভীন আক্তারের লাশ উদ্ধার করে এবং বিষয়টি সন্দেহ জনক হওয়ায় তার স্বামী অহিদুল মুন্সীকে আটক করে।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আসাদুজ্জামান প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে নিজের স্ত্রী পারভীন বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত বুধবার রাতে স্ত্রীকে সুকৌশলে বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে আড়িয়লবিল সংলগ্ন কামলা ডাঙ্গার বিলে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ২:৩৫ মিনিটে স্ত্রী পারভীন বেগমকে কাঁচি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। লাশ গুম করার লক্ষ্যে বিলের একটি পুকুরে কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখে। পরে হত্যাকারী অহিদুল মুন্সী বাড়িতে এসে নিজ গায়ের জামা কাপড় পাল্টিয়ে এলাকায় বলাবলি করে প্রতিবেশী রাজা মিয়ারা তাকে ও তার স্ত্রীকে তুলে বিলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। সে কোনমতে পালিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পারভীন বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ মর্গে প্রেরন করে।

এএসপি আসাদুজ্জামান অরো বলেন, এঘটনায় পাভীন বেগমের ভাই বাদি হয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে তা মামলায় রুপান্তরিত হয়। শ্রীনগর থানার মামলা নং-৫। আসামীর দেয়া তথ্যের ভিক্তিতে বিলের পুকুর থেকে ধারালো কাঁচি, লুকানো জামা কাপড়, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

অহিদুল মুন্সী ও পারভীন বেগম দম্পতির সম্পা (১৬), মিম (৮), জান্নাত (৪) নামে ৩ কন্যা ও ইয়াসিন (১২) নামে ১ পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের বড় মেয়ে সম্পার ৮ দিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন স্ত্রীকে হত্যার আগে পাষন্ড অহিদুলের মনে সন্তানদের কথা একবারও মনে হয়নি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.