লকডাউন: ঢাকা ছাড়ার মিছিলে শিমুলিয়ায় চাপ বেড়েছে আরও

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে সোমবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা আসার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মত চলছে ঢাকা ছাড়ার মিছিল। পদ্মা পার হয়ে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোর হাজার হাজার মানুষ মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে ভিড় করছেন।

যাত্রী চাপের মধ্যে রোববার সকাল থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি চলাচল করছে।

পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি পরিসেবার যানবাহনের পাশাপাশি হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে গাদাগাদি করে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা।

শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “শত চেষ্টা করেও যাত্রীদের থামানো যাচ্ছে না। চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১৫টি ফেরি চালু রাখতে হচ্ছে।”

ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকা বিভাগের সাত জেলায় গত ২২ জুন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এসব জেলায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়।

কিন্তু পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবার যানবাহন পারাপারের জন্য শিমুলিয়া বাংলাবাজার রুটে সীমিত পরিসরে ফেরি চালু রেখেছিল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে সোমবার থেকে সারাদেশেই ‘লকডাউন’ জারির ঘোষণা আসে গত শুক্রবার। ফলে শনিবার সকাল থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। পণ্যের গাড়ির জন্য চালু রাখা ফেরিতে মানুষের ঠাসাঠাসি ভিড় শুরু হয়ে যায়।

শনিবার রাতে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, সোমবার থেকে লকডাউন হবে সীমিত পরিসরে, ১ জুলাই থেকে তা ‘কঠোর’ হবে। এরপর রোববার সকাল থেকে শিমুলিয়ায় মানুষের চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই বিভিন্ন বাহনে ভেঙে ভেঙে পৌঁছাচ্ছেন শিমুলিয়ায়। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেক পোস্ট বসিয়ে ঘাটে আসার আগেই যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীরা পায়ে হেঁটে ঠিকই ফেরিতে পৌঁছে যাচ্ছেন।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, “যাত্রীদের ঘাটে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গত দুই দিনের তুলনায় আজ মানুষের চাপ বেড়েছে।”

জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ২০টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে শহর ও শহরের আশপাশেই আটটি চেক পোস্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরিতে করেই যাত্রী পারাপার হচ্ছে। তবে গণপরিবহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যেতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

এদিকে শিমুলিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনের সংযোগ সড়ক বর্ষার পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তাতে সমস্যা আরও বেড়েছে।

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.