মুন্সীগঞ্জে সেনাবাহিনী-বিজিবি ও পুলিশের টহল অব্যাহত

কাজী দীপু: করোনাভাইরাসের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির কারণে মানুষের চলাচলে কিছুটা শিথিল থাকলেও সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল অব্যাহত ছিল। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে মুন্সীগঞ্জের ৬ টি উপজেলার ১৭টি পয়েন্টে স্থাপন করা চেকপোষ্টে কড়া নজরদারি ছিল। ফলে চেকপোষ্ট ডিঙিয়ে রাজধানী ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি এবং জেলা থেকে কেউ বাইরেও যেতে পারেনি বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল জানান, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জেলায় মোতায়েনকৃত ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাব সদস্যরা কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে কাজ করছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সিরাজদিখানে নিমতলি এবং শিমুলিয়া ফেরিঘাটে এলাকাসহ জেলার সকল প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জে আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত নিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৭ জন দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭২ জন। অন্যদিকে করোনায় জয়ী হয়ে সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৮৫৫ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ওয়ারী হিসেবে করোনা শনাক্তের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৪৯ জন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৪৩৪ জন, সিরাজদীখান উপজেলায় ৯৬৭ জন, লৌহজং উপজেলায় ৫৩৫ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ৬০৮ জন এবং গজারিয়া উপজেলায় ৪৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যুবরন করা ৭২ জনের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৩৬ জন, টঙ্গিবাড়ীতে ৯ জন, সিরাজদীখানে ৯ জন, লৌহজংয়ে ৮ জন, শ্রীনগরে ৭ জন এবং গজারিয়ায় ৩ জন মৃত্যুবরন করেছে। এর মধ্যে গত বছর ৬৯ জন ও চলতি বছরে বর্তমান সময় পর্যন্ত মৃত্যুবরন করেছে ৩ জন। এছাড়া বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্থানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১০০ জন।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার নতুন আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩১ হাজার ৪৩ জনের। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৭ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৮৫৫ জন। আর করোনার টিকা নিয়েছে ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার জন্য মুন্সীগঞ্জে ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রান ও পুর্নবাসন মন্ত্রনালয়। বরাদ্ধকৃত টাকা চাহিদা অনুযায়ী ৬টি উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গ্রামনগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.