ডিএনসিসি হাসপাতালে এম্বুলেন্সের ভিড়

দুপুর ১টা। রোগী নিয়ে একের পর এক এম্বুলেন্স এসে থামছে রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে। বেশির ভাগ রোগী ঢাকার বাইরের। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট থাকায় তাদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে। হাসপাতালের তথ্যসূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নতুন রোগী এসেছেন ৪১ জনের মতো। তবে সন্ধ্যার পরে বাইরের রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়তে থাকে। আনুমানিক একশ’ জনের মতো রোগী আসলে ৭০-৮০ জন ভর্তি হচ্ছে। বাকিদের বাইরে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তাদের মধ্যে যদি কারও পজেটিভ আসে তখন তাকে পরবর্তীতে শরীরের অবস্থা বুঝে হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। অবস্থা ভালো মনে হলে বাসায় থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়। গত দু’সপ্তাহ ধরে হাসপাতালটিতে এভাবে প্রতিদিন বেড়ে যাচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

মুন্সীগঞ্জ থেকে আছিয়া বেগম তার স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে এসেছেন এখানে। জাহাঙ্গীর হোসেনের মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল। এম্বুলেন্সের মধ্যে বড় বড় শ্বাস নিতে দেখা যায় তাকে। আছিয়া বেগম বলেন, ১০-১২ দিন ধরে তার শরীরে জ্বর ছিল। নমুনা দেয়ার পরে তার পজেটিভ আসে। তারপর তাকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। গত দু’দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার স্বামী। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছে ঢাকায় কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির কথা ভেবেছিলাম। পরে পরিবারের সবার পরামর্শে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফরিদুল ইসলামকে বসে থাকতে দেখা যায় হাসপাতালের সামনে। কখনো হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে ছুটছেন আবার কখনো ফোনে অন্যান্য হাসপাতালে যোগাযোগ করছেন। অক্সিজেন সাপোর্ট পাবেন কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন তিনি। ফরিদুল ইসলাম জানান, তার চাচা আবদুল বারী দশদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। যখন তার পাঁচদিন ধরে জ্বর তখন করোনা পরীক্ষা করানো হয়। পজেটিভ আসায় তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অক্সিজেন লেভেল কম থাকায় হাসপাতাল থেকে রেফার করেছে ঢাকায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য। ওই হাসপাতালে নরমাল অক্সিজেন ছিল। আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস ও টিভি রোগে আক্রান্ত।
রাজু আহমেদ জানান, তিনি স্ত্রী মৃন্ময়কে শুক্রবার এই হাসপাতালে ভর্তি করান। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অক্সিজেন লেভেল অনেক কম। আগে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে অক্সিজেন সংকট থাকায় এই হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে খবর নিতে এসেছিলেন অনামিকা রহমান। তার ৭০ বছর বয়সী নানী করোনায় আক্রান্ত। তিনি গত চার-পাঁচদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। করোনা পজেটিভ আসায় ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর অক্সিজেন লেভেল ৮৪ তে নেমে যায়। অনামিকা জানান, গত দু’দিন ধরে তার নানীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে তার মামাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও মায়ের সঙ্গে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের দু’জনের অক্সিজেন লেভেল কম। হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট থাকায় তার নানীর একঘণ্টার মতো অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে রেখেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতে নানী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যান। ১৭ হাজার টাকা খরচ করে তাদের ঢাকাতে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে। ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালের করোনা ইউনিটগুলোতে খোঁজ নিচ্ছি। যেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট পাওয়া যাবে সেখানে তাদের ভর্তি করানো হবে।

মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.